‘টাটার মাঠে’ প্রধানমন্ত্রীর সভা: সিঙ্গুরে ফিরছে শিল্প রাজনীতির স্মৃতি, মোদীর বার্তায় নজর
সিঙ্গুর | নিজস্ব সংবাদদাতা:
২০০৮ সালের অক্টোবর মাস। প্রায় হাজার একর জমি জুড়ে নেমে এসেছিল অদ্ভুত স্তব্ধতা।
সিঙ্গুর থেকে ন্যানো প্রকল্প সরিয়ে গুজরাতের সাণন্দে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা করেছিলেন টাটা গোষ্ঠীর তৎকালীন কর্ণধার রতন টাটা। সেই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের শিল্প রাজনীতিতে এক গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল।
সাড়ে ১৭ বছর পর ফের সেই সিঙ্গুর, সেই ‘টাটার মাঠ’ এবং সেই ঘটনার অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র নরেন্দ্র মোদী আবার এক বিন্দুতে মিলিত হতে চলেছেন। তবে পার্থক্য একটাই—সেদিন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মোদী, আজ তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
আগামী ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরের ‘টাটার মাঠে’ জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইতিমধ্যেই সভাস্থলে জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। বিশাল ‘হ্যাঙার’ আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যার আদল একসময় ন্যানো কারখানার ছাউনির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। মাঠজুড়ে চলছে আর্থমুভার, রোলার ও ভারী যন্ত্রের কাজ।
উল্লেখ্য, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে সিঙ্গুরের পাঁচটি মৌজার মোট ৯৯৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল ন্যানো প্রকল্পের জন্য। জমি অধিগ্রহণকে ঘিরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত ২০০৮ সালে প্রকল্প সরিয়ে নেয় টাটা মোটরস। সেই আন্দোলনই ২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পথ প্রশস্ত করে।
২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়া হয়। যদিও কারখানার অবশিষ্ট কংক্রিট কাঠামোর কারণে এখনও সম্পূর্ণভাবে কৃষিকাজ শুরু হয়নি। সেই অনাবাদী অংশকেই বেছে নেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল হিসেবে।
রাজ্য বিজেপির দাবি, শিল্পহীনতায় ধুঁকছে সিঙ্গুর। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে ফের শিল্প ও বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হবে—এই বার্তাই মোদী দিতে চলেছেন। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের মতে, যে সিঙ্গুরকে একসময় শিল্প সম্ভাবনার ‘বধ্যভূমি’ বলা হতো, সেখান থেকেই শিল্পায়নের নতুন স্বপ্নের ডাক দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের আঁতুড়ঘর সিঙ্গুরে দাঁড়িয়ে মোদীর এই সভা যে রাজনৈতিক ও শিল্প—দু’দিক থেকেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।




