কোন্নগর–কানাইপুরে রমরমিয়ে জুয়ার ঠেক, ক্যামেরায় ধরা বিজেপি নেতা—নীরব প্রশাসন?
হুগলি | নিজস্ব সংবাদদাতা
হুগলি জেলার কোন্নগরের নবগ্রাম ও কানাইপুর এলাকায় মোড়েঘুরে গজিয়ে উঠছে একের পর এক জুয়ার ঠেক। বিশেষ করে কম্পিউটারাইজড জুয়া লোটো এখন ব্যাঙের ছাতার মতো ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। পর্দা টাঙিয়ে, ছোট দোকান কিংবা বাড়ি ভাড়া নিয়ে চলছে মানুষকে সর্বস্বান্ত করার খেলা।
এই জুয়ার ঠেক থেকেই এবার ক্যামেরায় ধরা পড়েছেন উত্তরপাড়া ১ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি নেতা অভিজিৎ কর ওরফে রাজা কর। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখেই মুখ লুকোনোর চেষ্টা থেকে শুরু করে ক্যামেরায় হাত দেওয়া—কিছুই বাদ যায়নি। যদিও এই বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে কেউ মুখ খুলতে চাননি।
অন্যদিকে, এই জুয়ার ঠেক ঘিরে প্রতিদিন সর্বস্বান্ত হচ্ছেন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। চোখের জল ফেলছেন পরিবারের মহিলারা ও শিশুরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, জুয়ার ঠেককে কেন্দ্র করে এলাকায় বাড়ছে বহিরাগতদের আনাগোনা। সকাল থেকেই ঠেকের সামনে বাইকের ভিড়, তৈরি হচ্ছে যানজট—কিন্তু প্রশাসনের কোনো হুঁশ নেই।
কানাইপুরের ছোটবাজার এলাকা, নবগ্রাম, কোন্নগর স্টেশন চত্বর—বাদ যাচ্ছে না কোনো জায়গা। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রশ্ন করলেই ঠেকের লোকজন বলে দিচ্ছে— “থানায় কথা হয়ে গেছে”
কিন্তু কার সঙ্গে কথা হয়েছে, সেই উত্তর আজও অজানা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন,
“দিন দিন এলাকার পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। প্রতিদিন দেখি অনেক মহিলা এসে কান্নাকাটি করছেন—নিশ্চয়ই তাঁদের স্বামী এখানে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। পুলিশ তো প্রায়ই এলাকায় ঘোরে, কিন্তু কিছুই কি চোখে পড়ে না?”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য,
“আগে এত জুয়ার রমরমা ছিল না। এখন প্রশ্ন করলেই বলে থানায় কথা হয়েছে। মাঝেমধ্যে এমন ভিড় হয় যে রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাই দায়।”
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, কিছু মাস আগেই এলাকায় এক পঞ্চায়েত সদস্য খুন হয়েছেন। তারপর থেকেই অসামাজিক কার্যকলাপ বেড়েছে। এখনই প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা।
এদিকে, এই ঘটনায় তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতা রূপ মুখার্জী বলেন,
“জুয়ার ঠেকে ক্যামেরায় ধরা পড়ছে বিজেপি নেতা—এটা অত্যন্ত লজ্জার। বিজেপি আসলে চোর-লম্পটদের দল। মানুষের পকেট কাটতেই এদের এসব জায়গায় ভিড়।”