প্রাথমিক স্কুল বন্ধের অভিযোগের মাঝেই সিঙ্গুরে নতুন বিদ্যালয়
মুখ্যমন্ত্রীর শিক্ষানীতির পাল্টা বার্তা, কৃতজ্ঞতা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
সিঙ্গুরে শিক্ষা পুনরুজ্জীবন—স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ২ কিলোমিটারের মধ্যেই
সিঙ্গুর | নিজস্ব প্রতিনিধি :
যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হওয়া নিয়ে বিরোধীদের তীব্র অভিযোগ, ঠিক সেই সময় সিঙ্গুরের প্রত্যন্ত বড়া অঞ্চলে নতুন করে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্বোধন রাজ্যের শিক্ষানীতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে আলোচনা উসকে দিল।

সোমবার বহরমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শুভ দ্বারোদঘাটন ও নতুন পঠনপাঠনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মাননীয় শ্রী ব্রাত্য বসু।

এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষিজ বিপণন মন্ত্রী ও পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী বেচারাম মান্না, হরিপালের বিধায়ক ডাঃ করবী মান্না, হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

স্থানীয় অভিভাবক ও গ্রামবাসীদের ভিড়ে বিদ্যালয় চত্বর কার্যত জনসভায় পরিণত হয়।
“মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই সিঙ্গুরে শিক্ষার এই পরিকাঠামো”
বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেন,
“আমি মুখ্যমন্ত্রীকে অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা জানাই। সিঙ্গুরের এই প্রত্যন্ত এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি বিপণন মন্ত্রী তথা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী এবং সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম প্রতীক বেচারাম মান্নার হাত ধরেই মুখ্যমন্ত্রী এই কাজটি করেছেন।”

তিনি আরও বলেন,
“শিক্ষা দপ্তর এখানে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। বিধায়ক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে এই স্কুল গড়ে তুলেছেন—এর জন্য আমার অভিনন্দনের কোনও ভাষা নেই।”
এক এলাকাতেই সম্পূর্ণ শিক্ষা চক্র
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সিঙ্গুরকে শিক্ষার একটি ‘মডেল জোন’ হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন,
“এই স্কুলের মাধ্যমে গ্রামবাসীরা ভীষণভাবে উপকৃত হবেন। এখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুর কলেজ তৈরি করেছেন। পাশাপাশি রানী রাসমনি বিশ্ববিদ্যালয়ও এই এলাকার কাছেই গড়ে উঠেছে। অর্থাৎ, এখানকার একটি ছেলে বা মেয়ে মাত্র ২ কিলোমিটারের মধ্যেই স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা সম্পন্ন করতে পারছে।”

প্রাথমিক স্কুল বন্ধের অভিযোগে কড়া জবাব
চারিদিকে যখন মাতৃভাষার প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার অভিযোগ উঠছে, সেই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন,
“মাতৃভাষার স্কুল কমে যাওয়ার একটি বাস্তব কারণ রয়েছে। অনেক অভিভাবকই এখন তাঁদের সন্তানদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।”
তিনি যোগ করেন,
“এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে সরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল চালু করেছেন। একদিকে মাতৃভাষার চর্চা বজায় রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজনও পূরণ করা হচ্ছে।”
বিরোধীদের উদ্দেশে কটাক্ষ
ব্রাত্য বসু বলেন,
“বিরোধীরা কী বলছেন, তা নিয়ে না ভেবে নতুন যে ভালো কাজ হচ্ছে, সেটাকে ইতিবাচকভাবে দেখার মানসিকতা থাকা দরকার। আমাদের সরকার একটি পজিটিভ সরকারের উদাহরণ।”
আরও স্কুল উদ্বোধনের বার্তা
অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষামন্ত্রী জানান,
“আমি এখান থেকে হরিপালের তাজপুরে যাব, সেখানে আরও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করব। আজ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর আশীর্বাদ নিয়েই ফিরছি।”
প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের অভিযোগের আবহে সিঙ্গুরে নতুন করে স্কুলের উদ্বোধন রাজ্য সরকারের শিক্ষানীতির বাস্তব রূপায়ণ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

