বাণী বন্দনায় সিঙ্গুর মহামায়া উচ্চ বিদ্যালয়
সিঙ্গুর টিভি নিউজ ওয়েভডেস্ক : সরস্বতী পুজো মানেই শিক্ষাঙ্গনে এক বিশেষ আবেশ—জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতির এক নিবিড় মিলন। সেই আবেশেই বাণী বন্দনায় সেজে উঠল সিঙ্গুরের ঐতিহ্যপ্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহামায়া উচ্চ বিদ্যালয়।
বছরের এই বিশেষ দিনে বিদ্যালয় চত্বর যেন শুধুই পুজোর আয়োজন নয়, বরং শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা ও সাংস্কৃতিক চেতনার এক জীবন্ত পরিসরে রূপ নেয়।

পুজো উপলক্ষে ছাত্রছাত্রীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সম্পূর্ণ নতুন রূপ পায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।https://youtube.com/shorts/wnzfmzn_4PM?si=nV-VowGRAfmfKYZz

একসঙ্গে প্রতিমা আনার মুহূর্তে।
কোথাও দল বেঁধে আলপনা আঁকা, কোথাও পরিকল্পনা করে নকশা তৈরি—সব মিলিয়ে পড়ুয়াদের সৃজনশীলতায় মুখর হয়ে ওঠে গোটা ক্যাম্পাস।

আলপনায় ফুটে ওঠে বই-খাতা, বীণা, কলম ও দেবী সরস্বতীর প্রতীকী রূপ, যা শিক্ষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার প্রকাশ ঘটায়।

হাতে হাত মিলিয়ে, একসঙ্গে আলপনা আঁকার মধ্য দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা শুধু শিল্পচর্চাই নয়, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার পাঠও নেয়। এই সম্মিলিত প্রয়াস বিদ্যালয়ের শিক্ষাবাতাবরণকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে। উৎসবের আনন্দে পড়ুয়ারা যেন নিজেদের বিদ্যালয়কেই নতুন করে আবিষ্কার করে নেয়।

এই আয়োজনকে বিশেষ মাত্রা দেয় শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের যৌথ অংশগ্রহণ। শিক্ষিকারাও শুধু তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নয়, বরং সহযাত্রী হয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলপনা আঁকা ও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের এই সহজ, আন্তরিক মুহূর্তগুলি বিদ্যালয়ের শিক্ষাদর্শনেরই প্রতিফলন। একসঙ্গে তোলা সেলফিতে ধরা পড়ে সেই সৌহার্দ্য ও আনন্দের স্মৃতি।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতিমা আগমনের পর্ব। সকল ছাত্রছাত্রী একসঙ্গে বিদ্যালয়ে দেবী সরস্বতীর প্রতিমা নিয়ে আসেন। শৃঙ্খলা, সহযোগিতা ও আনন্দের সমন্বয়ে এই মুহূর্ত বিদ্যালয় জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে ওঠে। প্রতিমা আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গোটা বিদ্যালয় চত্বরে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের উচ্ছ্বাস।
এই বাণী বন্দনার আয়োজন যেন কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্য দিয়ে ফুটে ওঠে বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক মূল্যবোধ এবং সমবেত চর্চার গুরুত্ব। শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির এই নিবিড় সংযোগ ছাত্রছাত্রীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সিঙ্গুর মহামায়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে—শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সহাবস্থান, সৃজনশীলতা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠার পথ তৈরি করে। বাণী বন্দনার এই আয়োজন সেই পথচলারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।



