মাধ্যমিকের আগে মাইক বিতর্কে উত্তপ্ত নালিকুল
তৃণমূল–বিজেপি তরজায় রাজনৈতিক চাপানউতোর, পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
নালিকুল, হুগলি:
আগামীকাল শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। তার ঠিক আগের দিন নালিকুল বটতলায় মাইক ব্যবহার করে বিজেপির সভা ঘিরে শুরু হলো রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষার্থীদের কথা না ভেবে বিজেপি “মেকি ছাত্রদরদী” সেজে মাইক ব্যবহার করে সভার আয়োজন করেছিল। বিষয়টি জানতে পেরে অভিভাবকরা প্রতিবাদ জানিয়ে মাইক বন্ধ করে দেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না। তাঁর অভিযোগ,
“মাধ্যমিক পরীক্ষার ৭২ ঘণ্টা আগে মাইক ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ। অথচ বিজেপি ছাত্রদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে কানের কাছে মাইক বাজানোর চেষ্টা করেছে। এরা দেশের আইন-কানুন মানে না।”
মন্ত্রী আরও বলেন, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।
“ক্ষমতায় না থেকেও যদি এই দম্ভ হয়, ক্ষমতায় এলে কী করবে, মানুষ হারে হারে তা বুঝে নেবে।”
এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের তরফে আরও দাবি করা হয়, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প—সবুজ সাথী সাইকেল, ট্যাব, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, এসসি-এসটি-ওবিসি ভাতা ও মেধাবী স্কলারশিপ—ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গঠনে বড় ভূমিকা নিয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে স্কুল পড়ুয়াদের উপস্থিতি নিয়েও বিজেপির অভিযোগকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে খারিজ করা হয়।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে বিজেপি। বিজেপির শ্রীরামপুর সংগঠনিক জেলার সভাপতি সুমন ঘোষ বলেন,
“বেচারাম মান্নার এই কথা বলার কোনও অধিকার নেই। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোথাও মাইক বাজানো হয় না। পুলিশ প্রশাসন অনুমতি দিয়েছে বলেই মাইক ব্যবহার করা হয়েছে। যদি আপত্তি থাকে, তা হলে পুলিশকেই প্রশ্ন করা উচিত।”
তিনি আরও পাল্টা অভিযোগ করেন,
“আজ সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় ছোট ছোট শিশুদের স্কুল ড্রেস পরিয়ে, অভিভাবকদের না জানিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল।”
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়েও তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলে বিজেপি। সুমন ঘোষের দাবি,
“পশ্চিমবঙ্গে প্রতি মুহূর্তে মা-বোনেরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তৃণমূল সরকার অপরাধীদের আড়াল করছে। বিজেপি মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। সেবাই আমাদের রাজনীতি।”

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রাক্কালে এই রাজনৈতিক তরজায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—রাজনৈতিক কর্মসূচির ঊর্ধ্বে উঠে পরীক্ষার্থীদের শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে? প্রশাসনের ভূমিকাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে





