আদর্শ হারিয়ে দল থেকে দূরে প্রাক্তন কর্মী — তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভের সুর
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলী/সিঙ্গুর:
এক সময়ের একনিষ্ঠ কর্মী, যিনি কিশোর বয়সে রাজপথে নেমে সংগঠনের পতাকা বেঁধেছিলেন, আজ তিনি দলীয় রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে কাজ করার পর আদর্শগত হতাশা ও সংগঠনের ভেতরের পরিবর্তনে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এখন দলীয় কচকচানি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ওই প্রাক্তন কর্মীর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস–এর প্রাথমিক লড়াইয়ের দিনগুলো ছিল ভিন্ন। সেই সময় সিপিএম–এর শাসনকালে বিরোধিতা করা সহজ ছিল না। রাতের অন্ধকারে দলীয় পতাকা ও ফেস্টুন নষ্ট করে দেওয়া হত বলে অভিযোগ। তবুও সাহস হারাননি তাঁরা—বারবার পাড়া, মোড়, অলিগলি নতুন করে সাজিয়ে তুলতেন।
কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর আক্ষেপ স্পষ্ট। তাঁর কথায়, “আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলেও দল আর আগের মতো নেই। যাঁরা একসময় বিরোধী শিবিরে ছিলেন, তাঁরাই এখন পাড়ার মাতব্বর। অন্ধকারে বন্ধ ঘরে বসে সংগঠনের ভবিষ্যৎ ঠিক হচ্ছে।”
রাজনৈতিক মহলে এই বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে। তবে সংগঠনের ভিতরে আদর্শ বনাম সুযোগসন্ধান—এই প্রশ্ন সময় সময় উঠে এসেছে।
🔎 অভিযোগ ও বাস্তবতা
প্রাক্তন কর্মীর আরও অভিযোগ, “কিছু ভণ্ড নেতা ব্যক্তিস্বার্থে দলীয় পতাকা ব্যবহার করছেন। সংগঠন শক্তিশালী করার বদলে বিলাসিতায় মগ্ন হয়ে পড়েছেন।” যদিও স্থানীয় নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাঁদের বক্তব্য, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রেখে সংগঠনকে আরও মজবুত করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা যে কোনও দলে এমন অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দিতে পারে। আদর্শের প্রশ্ন, পুরনো কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং নতুন নেতৃত্বের উত্থান—এসবই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ।
🗳️ সামনে কী?
রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ধরনের অসন্তোষ প্রকাশ্যে এলে সংগঠনের জন্য তা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে দলীয় নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
একসময় যাঁরা রাজপথে পতাকা হাতে লড়েছেন, তাঁদের এই হতাশার সুর কি সংগঠনের ভিতরে নতুন আত্মসমালোচনার পথ খুলবে? নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ক্ষোভ স্তিমিত হবে—সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
(এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত বক্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজস্ব মতামত। সংবাদপত্র তার সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি।)






