লেখার স্বাধীনতা কি সংকটে? নতুন আইনের প্রস্তাবে আশঙ্কা, প্রশ্নে সরব নাগরিক মহল
বিধানসভায় উঠতে চলা বিতর্কিত বিল নিয়ে উদ্বেগ—‘মতপ্রকাশের অধিকার’ খর্বের আশঙ্কা, প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রশ্ন
সিঙ্গুর টিভি নিউজ ওয়েবডেস্ক |২৯ জুন ২০২৬ :
রাজ্যের বাদল অধিবেশনে আজ এমন একটি বিল পেশ হতে চলেছে, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ, প্রস্তাবিত আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, প্রশাসনের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা তুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
সূত্রের দাবি, নতুন আইনে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নিজের বিচারবোধ অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে পারবেন। এর জন্য উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন নাও হতে পারে—যা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ উদ্বিগ্ন।
সমালোচকদের মতে, এই ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে লেখা, মতামত বা সমালোচনা—সবকিছুকেই ‘সরকারবিরোধী’ ব্যাখ্যা দিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।
একাধিক নাগরিক সংগঠন প্রশ্ন তুলেছে—“কোনও লেখা বা মতামতকে কীভাবে নির্ধারণ করা হবে যে তা আইনভঙ্গের শামিল?” তাদের বক্তব্য, স্পষ্ট গাইডলাইন ছাড়া এই ধরনের আইন প্রয়োগ হলে অপব্যবহারের সম্ভাবনা থেকেই যায়।
ইতিমধ্যেই অতীতের কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ টেনে অনেকেই বলছেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে রাজ্যে আগেও বিতর্ক হয়েছে। ফলে নতুন করে এই বিল নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রশাসনিক মহলের দাবি, আইনটি জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই আনা হচ্ছে।
প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে—
এই আইন কি সত্যিই নিরাপত্তার জন্য, নাকি তা নাগরিকের কণ্ঠরোধের আশঙ্কা তৈরি করছে?
বিধানসভায় বিলটি পেশ হওয়ার পরই পরিষ্কার হবে এর প্রকৃত রূপরেখা। তবে তার আগেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক—
“লেখা কি তবে ঝুঁকির?”






