পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আগুনে জ্বলল ভারতের পকেট! একলাফে ৩ টাকা বাড়ল পেট্রোল-ডিজেলের দাম
সিঙ্গুর টিভি নিউজ ওয়েবডেস্ক : পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের সরাসরি প্রভাব এবার আছড়ে পড়ল ভারতের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকার দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করতেই নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে মধ্যবিত্ত ও পরিবহন মহলে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে লিটার প্রতি ৯৭.৭৭ টাকা, যা আগে ছিল ৯৪.৭৭ টাকা। একইভাবে ডিজেলের দাম ৮৭.৬৭ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০.৬৭ টাকায়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধিকেই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুদ্ধের আবহে কাঁপছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের সংঘাত ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার জেরেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তেল পরিবহণ ব্যাহত হচ্ছে।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০২ ডলারে পৌঁছে গিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকেই ক্রমশ চড়তে থাকে অপরিশোধিত তেলের দাম। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের গণ্ডি পার করতেই ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
সরকারের আশ্বাস, তবু বাড়ছে দুশ্চিন্তা
কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী Hardeep Singh Puri জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির হলেও দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। দেশের সমস্ত শোধনাগার পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং পেট্রোল, ডিজেল ও এলপিজির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র।
তবে অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন খরচে। যার ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে। ট্রাক ভাড়া থেকে শুরু করে গণপরিবহণ, কৃষিপণ্য পরিবহণ—সব ক্ষেত্রেই বাড়তে পারে ব্যয়।
সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ
ইতিমধ্যেই মূল্যবৃদ্ধির চাপে নাজেহাল সাধারণ মানুষ। তার মধ্যেই জ্বালানির এই নতুন দাম বৃদ্ধি মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের সংসারের বাজেটে আরও চাপ বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রতিদিন বাইক বা গাড়িতে যাতায়াত করা কর্মজীবী মানুষদের মাসিক খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত দেশের জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

