পৃথিবীর সবথেকে দুর্লভ মাহেন্দ্রক্ষণ—নেতাজির জন্মজয়ন্তী ও সরস্বতী পুজো একই দিনে
সিঙ্গুর টিভি নিউজ ওয়েভডেস্ক : ২৩ জানুয়ারি—বাঙালির কাছে কেবল একটি তারিখ নয়, এক ঐতিহাসিক সমাপতন। একদিকে ভারতের মুক্তি সংগ্রামের সূর্য, দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্মজয়ন্তী; অন্যদিকে জ্ঞান, বিদ্যা ও বিবেকের প্রতীক মা সরস্বতীর আরাধনা।
এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—জাতীয়তাবাদ ও আধ্যাত্মিকতা একে অপরের বিরোধী নয়, বরং পরস্পরের পরিপূরক।
আজ যারা সরস্বতী পুজোকে কেবল ‘সাম্প্রদায়িক’ আখ্যা দিতে চান, তারা হয়তো জানেন না—অথবা জেনেও উপেক্ষা করেন—যে খোদ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ব্রিটিশ কারাগারের চার দেওয়ালের মধ্যেও মা সরস্বতীর আরাধনার অধিকার আদায় করেছিলেন।
📜 মান্দালয় জেল ও নেতাজির সরস্বতী পুজো
১৯২৪ সালে ব্রিটিশ সরকার নেতাজিকে গ্রেফতার করে তৎকালীন বার্মার কুখ্যাত মান্দালয় জেলে পাঠায়। ১৯২৫ সালে বন্দি অবস্থায় তিনি সহবন্দিদের সঙ্গে সরস্বতী পুজো করার সিদ্ধান্ত নেন।
ব্রিটিশ জেল কর্তৃপক্ষ সেই পুজোর অনুমতি দিতে অস্বীকার করলে নেতাজি অনশন শুরু করেন। তাঁর অদম্য সংকল্পের কাছে শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ প্রশাসন নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং জেলের মধ্যেই মা সরস্বতীর আরাধনা সম্পন্ন হয়।
পরবর্তীকালে ১৯২৭ সালে কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলেও তিনি একইভাবে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করেন। তাঁর কাছে এটি ছিল না কেবল ধর্মীয় আচার—বরং উপনিবেশিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক সাংস্কৃতিক ও নৈতিক প্রতিবাদ।
🕊️ কেন নেতাজির কাছে এই পুজো গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
নেতাজি বিশ্বাস করতেন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধুই রাজনৈতিক নয়—এটি একটি আধ্যাত্মিক লড়াইও।
মা সরস্বতী তাঁর কাছে ছিলেন জ্ঞান, শুদ্ধতা ও সত্যের প্রতীক। পরাধীনতার অন্ধকার কাটাতে যে বিবেক ও বুদ্ধির প্রয়োজন, সেই শক্তির উৎস হিসেবেই তিনি মায়ের আরাধনা করতেন।
🧠 ধর্ম নয় সাম্প্রদায়িকতা—নেতাজির বিশ্বাস
নেতাজির ধর্মচর্চা ছিল স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত—মানবতাবাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক।
- তিনি সর্বদা পকেটে একটি ছোট শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা রাখতেন
- বিবেকানন্দের দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে কৈশোরেই আত্মানুসন্ধানে বেরিয়েছিলেন
- আজাদ হিন্দ ফৌজে হিন্দু-মুসলিম-শিখ-খ্রিস্টান—সবাই ছিল সমান সম্মানের অধিকারী
নিজের ধর্মকে ভালোবাসা আর সাম্প্রদায়িক হওয়া এক নয়—নেতাজির জীবন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
🔍 আজকের প্রাসঙ্গিকতা
আজকের দিনে সরস্বতী পুজোকে ঘিরে বিতর্কের আবহে নেতাজির জীবন আমাদের শেখায়—
নিজের শিকড়কে চেনা, সংস্কৃতিকে ধারণ করা এবং সকলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা—এই তিনের সমন্বয়ই প্রকৃত জাতীয়তাবাদ।
নেতাজির জন্মদিনে তাঁকে প্রণাম জানিয়ে আসুন আমরা মা সরস্বতীর কাছে প্রার্থনা করি—
তিনি যেন আমাদের সেই শুভবুদ্ধি দেন, যা থাকলে দেশপ্রেম কেবল স্লোগান নয়, চরিত্র হয়ে ওঠে।
জয় হিন্দ। জয়তু নেতাজি। 🇮🇳





