পাঁচ বছরের আইনি লড়াইয়ের অবসান, তেঘড়ী কালী মন্দিরের অধিকার ফিরে পেল হালদার পরিবার
নিজস্ব সংবাদদাতা | তারকেশ্বর
দীর্ঘ পাঁচ বছরের আইনি লড়াইয়ের পর মহামান্য আদালতের রায়ে তারকেশ্বরের ঐতিহ্যবাহী তেঘড়ী কালী মন্দিরের নিত্যদিনের পুজো, বাৎসরিক পুজো, মন্দিরের আয়-ব্যয় ও রক্ষণাবেক্ষণের সমস্ত দায়িত্ব পুনরায় ফিরে পেল মন্দিরের সেবায়েত হালদার পরিবার। চন্দননগর মহকুমা আদালতের গত ২৪ ডিসেম্বর ঘোষিত রায়ে এই মর্মে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, মন্দির সংক্রান্ত সমস্ত ধর্মীয় ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করবে হালদার পরিবারের অধীনস্থ শ্রী শ্রী রক্ষা কালীমাতা ঠাকুরানী সেবায়েত ট্রাস্ট। পরিবার সূত্রে দাবি, প্রায় তিনশো বছর ধরে উত্তরাধিকার সূত্রে তারা এই রক্ষা কালী মন্দিরে পূজা-অর্চনা ও সেবাকার্য করে আসছেন।
হালদার পরিবারের অভিযোগ, বিগত পাঁচ বছর আগে গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জোরপূর্বক মন্দিরের দখল নেয়। সেই ঘটনার পর পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়। মামলার চলাকালীন একাধিকবার আদালত হালদার পরিবারের পক্ষে রায় দিলেও সেই নির্দেশ অমান্য করে অভিযুক্তরা মন্দির দখলে রেখেছিল বলে অভিযোগ।
পরিবারের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তরা নিজেদের শাসক দলের কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে হালদার পরিবারকে নানা ভাবে হয়রানি করত। চাষাবাদে বাধা দেওয়া, সামাজিক বয়কট, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে না দেওয়া এবং শিশুদের গৃহশিক্ষক গ্রামে ঢুকতে না দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে আসে।
অবশেষে চন্দননগর মহকুমা আদালতের চূড়ান্ত রায়ে মন্দিরের পূর্ণ অধিকার ফিরে পায় হালদার পরিবার। আদালত জানিয়েছে, এই রায় অমান্য করা হলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
রায় ঘোষণার পরদিন মন্দির প্রাঙ্গণে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে হালদার পরিবার। সেখানে পরিবারের সদস্য দয়াল হালদার জানান, আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট এবং শান্তিপূর্ণভাবে মায়ের সেবা করতে চান।
এই রায়কে ঘিরে এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন প্রশাসনের ভূমিকার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন গ্রামবাসীরা।





