সিঙ্গুরে গভীর রাতে অপহরণ ও নৃশংস মারধর, আহত যুবক অমিত দিন্দা
মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে চারচাকা গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর, ভাঙা হলো হাত—তদন্তে সিঙ্গুর থানা
সিঙ্গুর, হুগলি:
হুগলির সিঙ্গুর থানার অন্তর্গত গোপালনগর অঞ্চলের সানাপাড়া মোড়ে শুক্রবার গভীর রাতে এক যুবককে অপহরণ করে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত যুবকের নাম অমিত দিন্দা।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা নাগাদ অমিত দিন্দা তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে সানাপাড়া মোড়ের একটি সিঙ্গি ধাবায় যান। এরপর অমিত দিন্দা চারচাকা গাড়িতে রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময় তাঁর পরিচিত ব্যক্তি রাজু সরকার সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ, রাজু সরকারের সঙ্গে আরও প্রায় ৫টি গাড়িতে করে ২০ জনের একটি দল ঘটনাস্থলে আসে।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা অমিত দিন্দার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে জোরপূর্বক তাঁকে চারচাকা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে সিসিডি পাম্প সংলগ্ন একটি প্রোজেক্ট এরিয়ায় কিউ ইন্ড্রাসট্রিয়াল পার্কের মধ্যে ঝামেলা হয়। সিসিডি পাম্পের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাস্থলে দারোয়ান উপস্থিত থাকলেও তিনি কোনো প্রতিবাদ বা মন্তব্য করেননি বলে অভিযোগ।
সেখানে নিয়ে গিয়ে অমিত দিন্দার উপর চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। তাঁর বাম হাত ভেঙে দেওয়া হয়, মাথায় গুরুতর আঘাত করা হয় এবং সারা শরীরে কিল, চড়, লাথি ও ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে। আহত অমিত দিন্দার দাবি, ঘটনার সময় অভিযুক্তদের মধ্যে হাসিব আহমদ ও রাজু সরকার যুক্ত রয়েছেন। মারধরের ফলে তিনি একসময় অচৈতন্য হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে অভিযুক্তদের নিজেদের মধ্যে বচসার সুযোগে কোনওরকমে প্রাণ বাঁচিয়ে অমিত দিন্দা পালিয়ে এসে প্রোজেক্ট এরিয়ার সামনে পৌঁছান। পরে তিনি বন্ধুদের বিষয়টি জানালে প্রশাসন ঘটনাস্থলে এসে তাঁকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সিঙ্গুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে পরিবার সূত্রে জানা যায়, এই ঘটনায় তাঁরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। গভীর রাতে লোকালয়ের মধ্যে এমন ভয়াবহ ঘটনার জেরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
অমিত দিন্দার স্ত্রী একতা দিন্দা সিঙ্গুর টিভি নিউজকে জানান,
“আমার স্বামী সম্পর্কে প্রথম খবর পাই ওর বন্ধুদের কাছ থেকে। দুপুর বারোটা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যে দৃশ্য দেখি, তা ভয়ঙ্কর। ওকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। হাত ভেঙে গেছে, মাথা ফুলে গেছে। আমি এই নৃশংস ঘটনার জন্য দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

