🌾 রজত জয়ন্তীর আলোয় মা অন্নপূর্ণা: নসিবপুরে এন ডি মিলন সমিতির ২৫ বছরের আবেগ
চৈত্রের সকাল। হালকা রোদ, বাতাসে ধূপের গন্ধ, আর মিলন সমিতির মাঠজুড়ে ভক্তদের নীরব অপেক্ষা। সময় তখন সকাল ৯টা। নারকেল ফাটার শব্দে যেন ভেঙে গেল চারপাশের নিস্তব্ধতা। সুসজ্জিত বাঁশের খুঁটির সামনে শুরু হলো পুজোর মূল আচার।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এন ডি মিলন সমিতি—আজ আর শুধু একটি ক্লাবের নাম নয়, নসিবপুর দুর্গারামপুর এলাকার মানুষের আবেগ, স্মৃতি আর মিলনের কেন্দ্রবিন্দু। রজত জয়ন্তী বর্ষে পা দিয়ে সেই আবেগ যেন আরও ঘন, আরও গভীর।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও চৈত্র মাসে বোধন হলো মা অন্নপূর্ণার। অন্নপূর্ণা—যিনি অন্নের দেবী, যিনি অভাবের ঘরে ভরসা, যিনি সংসারের প্রতিটি হাঁড়িতে আশীর্বাদের স্পর্শ রেখে যান। এই পুজো তাই শুধুই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি গ্রামবাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর মানুষের পারস্পরিক বন্ধনের উৎসব।

মাঠজুড়ে ভেসে আসছিল শঙ্খধ্বনি। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নতুন পোশাকে দৌড়চ্ছে, প্রবীণরা স্মৃতিচারণায় মগ্ন—“এই মাঠে কত বছর ধরে পুজো হচ্ছে!” কেউ বলছেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি।”

এই পুজোর আরেকটি বিশেষ দিক হলো মূর্তি ও থিমের বৈচিত্র্য। প্রতি বছরই আয়োজকেরা চেষ্টা করেন নতুন কিছু উপহার দিতে। স্থানীয় শিল্পীদের সৃজনশীলতায় প্রতিবারই মা অন্নপূর্ণা ধরা দেন এক অন্য রূপে—কখনও ঐতিহ্যের ছোঁয়ায়, কখনও আধুনিক ভাবনায়।
রজত জয়ন্তী বর্ষে সেই আয়োজন ছিল আরও বর্ণময়। শুধু মূর্তি নয়, সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা—সবেতেই ছিল বিশেষ ছাপ। যেন ২৫ বছরের পথচলার গল্পটাই ফুটে উঠেছে প্রতিটি বাঁশের খুঁটিতে, প্রতিটি আলোর রেখায়।
ক্লাবের সদস্যদের চোখে ছিল গর্ব। কারণ এই পুজো শুধু কয়েক দিনের অনুষ্ঠান নয়—এটি বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা এক সামাজিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন। এখানে ধর্মের পাশাপাশি আছে সম্প্রীতি, আছে একসাথে থাকার প্রতিশ্রুতি।
নসিবপুর দুর্গারামপুর মিলন সমিতি মাঠে তাই মা অন্নপূর্ণার এই পুজো হয়ে উঠেছে এক চিরন্তন মিলনের নাম।
রজত জয়ন্তীর এই প্রভাতে যেন নতুন করে শপথ নিল এন ডি মিলন সমিতি—
ঐতিহ্য থাকবে, মানুষ থাকবে, মা থাকবেন।
আর এই মাঠে প্রতি চৈত্রেই আবার বাজবে শঙ্খ, আবার ফাটবে নারকেল, আবার মিলবে মানুষে মানুষে হৃদয়ের বন্ধন।







