পটুয়াপাড়ার নিঃশব্দ শিল্প: সরস্বতী গড়েন যাঁরা, তাঁদের কথাই বা ক’জন জানে
সিঙ্গুর টিভি নিউজ ওয়েভডেস্ক |
সিঙ্গুরের জলাঘাটা অঞ্চলের বাবুর পুকুর সংলগ্ন যে রাস্তা স্কুল মোড়ে ঘুরে গেছে, সেই রাস্তাতেই কয়েক ঘর পোটো বাড়ি—লোকমুখে পরিচিত পটুয়াপাড়া। এখানেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঠাকুর গড়ার কাজ চলে আসছে নিঃশব্দে, প্রচারের আলো থেকে দূরে।
এই পাড়ারই এক পরিচিত নাম শৈলেন চিত্রকর। বর্তমানে তাঁর তিন ছেলে এই শিল্পকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ঠাকুর তৈরির কাজ করে চলেছেন। নিজেদের শিল্পীর পরিচয়ে তাঁরা তৈরি করছেন কালী, লক্ষ্মী, সরস্বতীর মতো প্রতিমা—যেখানে ফুটে ওঠে মাটির কাজের সূক্ষ্মতা আর অভিজ্ঞ হাতের ছোঁয়া।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের কাছেই এই বাড়ির সঙ্গে আবেগের যোগ বহু বছরের। একই দেওয়াল ঘেঁষে বেড়ে ওঠা সম্পর্ক, ছোটবেলা থেকে এই বাড়ি থেকেই লক্ষ্মী, সরস্বতী, কালী, দুর্গা পুজোর ঠাকুর আসার স্মৃতি—সব মিলিয়ে এই শিল্প শুধুই পেশা নয়, পরিবারের অংশ।
সময়ের সঙ্গে কিছু বদলও এসেছে। পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যুর পর কালী ও দুর্গা পুজো বন্ধ হলেও, এখনও বিশ্বাস আর মঙ্গলকামনায় লক্ষ্মী ও সরস্বতী পুজো চালু রয়েছে। বৃদ্ধা মায়ের হাতে আজও সেই পুজোর প্রস্তুতি চলে।
সম্প্রতি কলকাতা থেকে ফিরে সরস্বতী প্রতিমার কাজ দেখতে এসে দেখা গেল—বরদা ওরফে বাবু দা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে প্রতিমা সাজাচ্ছেন। প্রতিটি রং, প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে রয়েছে অভিজ্ঞতা আর নিষ্ঠা। বাইরে থেকে যা শুধু একটি সুন্দর প্রতিমা, তার আড়ালে রয়েছে দিনের পর দিন কঠোর পরিশ্রম।
এই পটুয়াপাড়ার শিল্পীরা হয়তো বড় মণ্ডপে আলো পান না, কিন্তু তাঁদের হাতেই তৈরি হয় বহু ঘরের আরাধনার কেন্দ্রবিন্দু। সরস্বতী পুজোর আগে তাই এই নিঃশব্দ শিল্পীদের কাজ নতুন করে চোখে পড়ছে—যাঁদের ছাড়া উৎসবের পূর্ণতা অসম্পূর্ণ।






