সিঙ্গুরে ভোটার তালিকা বিতর্ক
খসড়া তালিকায় নাম, চূড়ান্ত তালিকায় উধাও! আতঙ্কে বিএলওরা, প্রশ্নের মুখে প্রক্রিয়া
সিঙ্গুর: নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশের পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিঙ্গুরের একাধিক বুথ এলাকা। অভিযোগ উঠেছে, খসড়া তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকায় বহু ভোটারের নাম নেই। এই পরিস্থিতিতে চাপে পড়েছেন বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)রা।
বিএলওদের একাংশের দাবি, গত সাড়ে তিন থেকে চার মাস ধরে তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই-বাছাই, নথিপত্র সংগ্রহ ও হিয়ারিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা হাতে পাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে হিয়ারিং ছাড়াই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
একজন বিএলও জানান,
“আমাদের বুথেই ৯১ বছরের এক প্রবীণার নাম ডিলিট হয়ে গেছে। জীবনে বহুবার ভোট দিয়েছেন। খসড়া তালিকায় নাম ছিল, কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নেই। তাঁকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়নি। আমরা ভোটারদের কী জবাব দেব?”
কোথায় প্রশ্ন উঠছে?
- হিয়ারিং নোটিস কি যথাযথভাবে পৌঁছেছিল?
- বৈধ নথি জমা দেওয়ার পরও নাম বাদ গেল কেন?
- নোটিফিকেশন ছাড়াই ডিলিশন কি নিয়মসিদ্ধ?
বিএলওদের বক্তব্য, নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বলা হয়েছিল—“বৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে না।” অথচ মাঠস্তরে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন বলেই দাবি তাঁদের।
নিরাপত্তাহীনতায় বিএলওরা
ভোটারদের মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা এখন উদ্বিগ্ন। কারণ তালিকা সংশোধনের দায়িত্বে থাকলেও, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁদের হাতে থাকে না। ফলে ভোটারদের ক্ষোভ সরাসরি তাঁদের দিকেই ঘুরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকেই।
প্রশাসনের বক্তব্য?
এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত মেলেনি। প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট আপত্তি বা ত্রুটির অভিযোগ থাকলে নিয়মমাফিক পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষণ
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত যেকোনো বিতর্কই নির্বাচনী আবহে অত্যন্ত সংবেদনশীল। বিশেষত প্রবীণ ভোটারদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ সামনে এলে তা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তোলে।
তবে বাস্তবে প্রযুক্তিগত ত্রুটি, ডুপ্লিকেশন, স্থানান্তর, বা নথিগত অসঙ্গতির কারণেও নাম বাদ যেতে পারে—এমনটাও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে অস্বাভাবিক নয়।
এখন দেখার বিষয়—সিঙ্গুরের এই অভিযোগগুলি পৃথক ত্রুটি, না কি বৃহত্তর কোনও প্রশাসনিক সমস্যার ইঙ্গিত।







