চন্ডিতলায় প্রতিবেশী তরুণীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের ১৪ দিনের জেল হেফাজত
চন্ডিতলা: প্রতিবেশী এক তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্যকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিল শ্রীরামপুর আদালত। অভিযুক্তের নাম ফারুক মল্লিক। তিনি চন্ডিতলা ব্লকের বরিঝাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী ওই তরুণীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এই নির্যাতনের জেরে ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হতেই প্রথমে দুই পরিবার ও স্থানীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে শালিশি সভা বসে। তবে কোনও সমাধান সূত্র না বেরোনোয় উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়।
এলাকাবাসীদের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যকে মারধর করে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে চন্ডিতলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পুলিশের কাছ থেকে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিয়ে ফের মারধর শুরু হয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চন্ডিতলা থানায় নিয়ে যায়।
নির্যাতিতার পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ফারুক মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাকে শ্রীরামপুর আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
নির্যাতিতার পরিবারের তরফে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য বলেন,
“এই কাজটা যদি একজন পঞ্চায়েত সদস্য করতে পারে, তাহলে আগে আরও কতজনের সঙ্গে এমন করেছে কে জানে। আমরা ওর কঠোর শাস্তি চাই।”
এদিকে মামলার শুনানির পর শ্রীরামপুর আদালতের আইনজীবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দাবি করেন,
“এই ধরনের ঘটনা বর্তমান শাসনকালে বারবার সামনে আসছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বহু ক্ষেত্রেই মহিলাদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বেশিরভাগ ঘটনা থানায় পৌঁছয় না, স্থানীয় স্তরে ‘সেটল’ করে দেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে নির্যাতিতার পরিবার সাহস দেখিয়ে এফআইআর করায় বিষয়টি সামনে এসেছে।”
আইনজীবীর আরও দাবি, তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি এবং এই ধরনের অপরাধে দ্রুত বিচার হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার ধারা ১৬৪ অনুযায়ী গোপন জবানবন্দি ইতিমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ও ২৬ তারিখে অভিযুক্তকে ফের আদালতে পেশ করা হবে। তদন্ত এখনও চলছে।

