ঐক্যের বার্তা, ২০২৬ লক্ষ্য সামনে রেখে যুব মোর্চার নতুন সভাপতির পাশে হুগলি বিজেপি
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি:
জয় শ্রী রামের ধ্বনিতে মুখরিত হল জেলা কার্যালয়। “লড়াই লড়াই লড়াই চাই”, “ভারত মাতা কি জয়”—স্লোগানে উত্তাল পরিবেশের মধ্যেই হুগলি জেলায় যুব নেতৃত্ব নিয়ে নতুন বার্তা দিলেন জেলা নেতৃত্ব।
সম্প্রতি Bharatiya Janata Party-র জেলা কমিটির পক্ষ থেকে যুব মোর্চার নতুন সভাপতির দায়িত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি, জেলা নেতৃত্ব ও বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক।
ঐক্যের ডাক
নতুন সভাপতির সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা নেতৃত্ব স্পষ্ট বার্তা দেন—
“আমাদের লড়াই নিজেদের মধ্যে নয়। আমাদের লড়াই শাসকদলের বিরুদ্ধে। দল যাকে দায়িত্ব দিয়েছে, তার পাশে দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই এখন মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, দল কাউকে জিজ্ঞাসা করে দায়িত্ব দেয় না। সাংগঠনিক প্রয়োজন অনুযায়ী নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়। সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে আগামী দিনে সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
মতভেদ নিয়ে প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি দলের অন্দরে কিছু মতানৈক্যের খবর সামনে এসেছে। এই প্রসঙ্গে জেলা নেতৃত্বের বক্তব্য, “বৃহৎ পরিবারে মতের অমিল থাকতেই পারে। কিন্তু দিনের শেষে সবাই একসাথে কাজ করব। আমাদের পরিবার ঐক্যবদ্ধ।”
নতুন যুব সভাপতি সম্পর্কেও তিনি বলেন, তিনি দলের পুরনো কর্মী। সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আগামী দিনে যুব সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবেন।
২০২৬ পাখির চোখ
সভায় একাধিকবার উঠে আসে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। বক্তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট—
“২০২৬-এ পরিবর্তন আনাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সাতটি বিধানসভা এলাকায় জয়ের জন্য এখন থেকেই সংগঠন মজবুত করতে হবে।”
নেতৃত্বের দাবি, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং যুব সমাজ আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
যুব মোর্চার ভূমিকা
BJP Yuva Morcha-র নতুন সভাপতিকে ঘিরে কর্মীদের উচ্ছ্বাসও চোখে পড়ে। একাংশের আপত্তির প্রসঙ্গে নেতৃত্বের বক্তব্য, “কিছু অসন্তোষ থাকতেই পারে, তবে আলোচনা ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা মিটে যাবে।”
সভায় উপস্থিত কর্মীদের দাবি, নতুন নেতৃত্বের ফলে সংগঠনে নতুন উদ্দীপনা এসেছে। বিশেষ করে যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে সক্রিয়তা বাড়বে বলেই মত তাঁদের।
শাসকদলের বিরুদ্ধে আক্রমণ
বক্তব্যে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে জেলা নেতৃত্ব বলেন, “রাজ্যে অপশাসন চলছে। বাংলাকে বাঁচাতে হলে শক্তিশালী বিকল্প প্রয়োজন।”
তাঁদের দাবি, আগামী নির্বাচনে জেলার সাতটি বিধানসভা আসনেই জয়ের লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।
উপসংহার
সব মিলিয়ে, নতুন যুব সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে আলোচনা, অন্যদিকে তেমনই ২০২৬-কে সামনে রেখে ঐক্যের বার্তা স্পষ্ট করল হুগলি জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী দিনে এই সাংগঠনিক রদবদল কতটা প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই নজর থাকবে।






