চন্দননগরে জয়ের মার্জিন বাড়ানোর লক্ষ্য, আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন
চন্দননগর, সিঙ্গুর টিভি নিউজ ওয়েবডেস্ক : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন আত্মবিশ্বাসী সুরে জানালেন, চন্দননগরে এবার জয়ের মার্জিন আরও বাড়বে এবং বিরোধীরা কার্যত লড়াইয়ের ময়দানে নেই বলেই দাবি তাঁর।
প্রার্থীপদ ঘোষণার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইন্দ্রনীল সেন বলেন, চন্দননগরে তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ নয়, বরং দলের প্রতি মানুষের আস্থাই সবচেয়ে বড় শক্তি। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে রাজ্যে যে উন্নয়ন হয়েছে, তার প্রভাবই এই কেন্দ্রে স্পষ্ট।
🔷 “প্রতিপক্ষ নেই, লড়াই নিজেদের সঙ্গে”
ইন্দ্রনীল সেনের কথায়,
“এখানে রাজনৈতিকভাবে কোনও শক্ত প্রতিপক্ষ নেই। আমাদের আসল লড়াই নিজেদের সঙ্গে—কীভাবে আরও বেশি ভোটে জেতা যায়, সেটাই লক্ষ্য।”
এই মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি বিরোধীদের তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ এবং সংগঠনগত শক্তির ওপরই ভরসা রাখছেন।
🔷 উন্নয়নই প্রধান হাতিয়ার
উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ২০১১ সালের পর থেকে চন্দননগরে যে পরিকাঠামো ও পরিষেবার উন্নয়ন হয়েছে, তা স্বাধীনতার পর কোনও সরকার করতে পারেনি। আগামী পাঁচ বছরে আরও নতুন প্রকল্প ও কাজের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন,
“আমাদের কাজই আমাদের প্রচার। আলাদা করে প্রচার করার প্রয়োজন পড়ে না।”
🔷 স্বাস্থ্য নিয়ে অভিযোগে কটাক্ষ
বিরোধীদের তরফে স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে কটাক্ষ করে তিনি বলেন,
“যারা অভিযোগ করছেন, তাদের আগে নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।”
একইসঙ্গে তিনি ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পের উল্লেখ করে বলেন, সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা পাচ্ছেন।
🔷 কেন্দ্রীয় বকেয়া টাকা নিয়েও সরব
কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখেছে। সেই টাকা পেলে আরও উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, তারাও যেন কেন্দ্রের কাছে বকেয়া টাকা ছাড়ার দাবি তোলে।
🔷 ৯৫% ভোটিংয়ের দাবি
ভোটের হার নিয়েও বড় মন্তব্য করেন তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর অনুমান, এবার চন্দননগরে ভোটের হার ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা রেকর্ড হতে পারে।
গতবারের তুলনায় আরও বেশি মানুষ ভোট দিতে আসবেন বলেও আশাবাদী তিনি।
🔷 ৩৬৫ দিনের প্রচার—দলের কর্মীদের বার্তা
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি জানান, তৃণমূল কংগ্রেস সারা বছর মানুষের পাশে থাকে। তাই নির্বাচনের সময় আলাদা করে প্রচারের প্রয়োজন কম।
তিনি কর্মীদের নির্দেশ দেন, সব ভোটারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে—তারা যে দলেরই হোক না কেন—এবং যাতে কেউ ভোট দিতে সমস্যায় না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে।
🔚 উপসংহার
সব মিলিয়ে, চন্দননগরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই নির্বাচনী ময়দানে নেমেছেন। উন্নয়ন, সংগঠন এবং নেতৃত্বের উপর ভরসা রেখে তিনি যে বড় জয়ের লক্ষ্য নিয়েছেন, তা তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।
এখন দেখার, ভোটের বাক্সে সেই আত্মবিশ্বাস কতটা বাস্তব রূপ পায়।










