ডানকুনিতে ফের ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত্যুর অভিযোগ—এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য
নিজস্ব প্রতিনিধি, ডানকুনি,
ঘটনাটি ঘটেছে ডানকুনি পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মথুরডাঙা মাঝেরপাড়া এলাকায়। মৃত ব্যক্তি শেখ আনোয়ার (প্রায় ৬০–৬২), যিনি স্থানীয়ভাবে ঝালমুড়ি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবারের দাবি, বারবার এসআইআর (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত নোটিস ও শুনানির চাপেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ কী?
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী—
- শেখ আনোয়ারকে চারবার নোটিস পাঠানো হয়।
- তিনি নিজে শুনানিতে হাজির হয়ে নথি জমা দেন।
- শেষ নোটিসে এলাকায় পাঁচজন ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ফর্ম জমা দিতে বলা হয়।
- প্রয়োজনীয় সই ও কাগজ জমা দেওয়ার পরও তিনি চিন্তায় ভুগছিলেন।
- গতকাল রাত তিনটা নাগাদ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন; হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
মেয়ের কথায়, “বাবা বারবার জিজ্ঞাসা করছিলেন ফর্ম ঠিকমতো জমা হয়েছে তো? থাকবে তো?”—এই উদ্বেগই নাকি তাঁকে ভিতর থেকে গ্রাস করছিল।
প্রতিবেশীদের বক্তব্য
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, রাত ৯টা পর্যন্ত তিনি দোকানে বসে আড্ডা দেন, চা খান। কিন্তু এসআইআর নোটিস নিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় ছিলেন। চারবার নোটিস আসায় আতঙ্ক বেড়েছিল বলেই দাবি তাঁদের।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ডানকুনি পুরসভার চেয়ারপার্সন হাসিনা সপন এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত নোটিস ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে “হয়রানি” করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা দাবি—
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য পোস্টমর্টেম হোক। শুধুমাত্র “আতঙ্ক”কে কারণ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ ব্লক স্তরেই হয় এবং সেই প্রক্রিয়ায় শাসক দলের প্রতিনিধিরাও যুক্ত থাকেন।
বড় প্রশ্ন
এই নিয়ে একই ওয়ার্ডে আগেও এক মহিলার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ‘এসআইআর আতঙ্ক’ অভিযোগ উঠেছিল। যদিও সরকারি ভাবে এখনো পর্যন্ত এমন মৃত্যুর সরাসরি কারণ হিসেবে এসআইআর আতঙ্ক প্রমাণিত হয়নি।
এখন মূল প্রশ্ন—
- শেখ আনোয়ারের মৃত্যু কি স্বাভাবিক শারীরিক কারণে?
- নাকি মানসিক চাপে হৃদ্রোগ বা অন্য জটিলতা তৈরি হয়েছিল?
- পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কী বলবে?
এলাকায় শোকের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তাপও বাড়ছে। একজন খেটে খাওয়া মানুষের মৃত্যু ঘিরে যে মানসিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, সেটাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
আপনি কী মনে করেন—ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া কি আরও স্বচ্ছ ও মানবিক হওয়া দরকার?






