মহাত্মা-শ্রী প্রকল্প (Mahatma-Shri Scheme): কেন্দ্রীয় সরকারের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প Mahatma Gandhi NREGA থেকে মহাত্মা গান্ধীর নাম সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তীব্র প্রতিক্রিয়া। রাজ্যের নিজস্ব কর্মসংস্থান প্রকল্প ‘কর্মশ্রী’র নাম বদলে রাখা হল ‘মহাত্মা-শ্রী’। এই পদক্ষেপ জাতির জনককে সম্মান জানানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে।
কেন্দ্রের বিল ও নাম পরিবর্তনের বিতর্ক
সম্প্রতি সংসদে পাস হয়েছে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বিল। এতে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মনিশ্চয়তা আইনের পরিবর্তে নতুন কাঠামো আনা হয়েছে, যাতে মহাত্মা গান্ধীর নাম আর নেই। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, কারণ অনেকে এটাকে জাতির জনকের উত্তরাধিকারের প্রতি অসম্মান বলে মনে করছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যারা জাতির জনককে সম্মান করতে পারেন না, তাঁদের দেখিয়ে দেওয়া হবে কীভাবে সম্মান জানাতে হয়।
বাংলার ‘মহাত্মা-শ্রী’ প্রকল্প | Mahamta Shri Scheme
কেন্দ্র বাংলাকে ১০০ দিনের কাজের তহবিল বন্ধ করে দেওয়ার পর রাজ্য নিজের খরচে ‘কর্মশ্রী’ চালু করেছিল। এর মাধ্যমে ৭৮ লক্ষ ৩১ হাজারের বেশি জবকার্ডধারীকে কাজ দেওয়া হয়েছে এবং খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। পঞ্চায়েত দফতরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে এখন এই প্রকল্পের নাম ‘মহাত্মা-শ্রী’। লক্ষ্য রাখা হয়েছে প্রতি আর্থিক বছরে জবকার্ডধারীদের কমপক্ষে ১০০ দিন কাজ দেওয়া।
আরও পড়ুনঃ NPS December 2025 Rules, বেশি Lump Sum + Gold ETF, বদলে গেল রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান
এই নাম বদলের গভীর তাৎপর্য
এটা শুধু নামের পরিবর্তন নয়, মহাত্মা গান্ধীর আদর্শকে জীবন্ত রাখার প্রতিশ্রুতি। কেন্দ্রের তহবিল বন্ধ থাকলেও রাজ্য নিজের সম্পদে গ্রামীণ মানুষের জীবিকা নিশ্চিত করছে। এতে দরিদ্র পরিবারগুলো সাহায্য পাচ্ছে এবং কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে ‘মহাত্মা-শ্রী’ কতটা সফল হয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

