রিপাবলিক বাংলা ছাড়লেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ, নতুন রাজনৈতিক-সাংবাদিক অধ্যায়ের ইঙ্গিতে তীব্র জল্পনা
“দ্য গেম হ্যাজ জাস্ট বিগান”—বিদায়বার্তায় রহস্য, সমর্থক-বিরোধী মহলে তুমুল চর্চা
নিজস্ব সংবাদদাতা:
বাংলা টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমে এক তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সাক্ষী রইল বুধবারের সকাল। রিপাবলিক বাংলা সংস্থা থেকে ইস্তফা দিলেন চেনা মুখ এবং বিতর্কিত অথচ প্রভাবশালী সংবাদ ব্যক্তিত্ব ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। সংস্থায় তাঁর শেষ কর্মদিবস ছিল বুধবার সকাল, যা তিনি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঘোষণা করেন।
সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ বার্তায় ময়ূখ জানান, এই সিদ্ধান্ত আকস্মিক নয়। বরং ২০২৫ সাল থেকেই তিনি এই বিষয়ে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন। যদিও তাঁর এই পদত্যাগের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ কী, তা নিয়ে আপাতত কোনও বিশদ ব্যাখ্যা দেননি তিনি। বরং স্পষ্ট করে জানান, “আজ শুধু ঘোষণা, কারণ বলার দিন নয়”—যা স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নিজের পেশাগত ভূমিকা সম্পর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ময়ূখ বলেন, তাঁর কাজ ছিল “গণজ্ঞাপন”—অর্থাৎ জনমত গঠন। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রবাদ এবং হিন্দুত্বের পক্ষে জাগরণ সৃষ্টি করা এবং দেশবিরোধী ন্যারেটিভের বিরুদ্ধে সরব হওয়াই ছিল তাঁর সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য। এই বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সংবাদমহলে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। প্রচলিত সংবাদমাধ্যমের কাঠামো এবং দর্শকের অভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ময়ূখ। তাঁর বক্তব্য, “খবর মানেই কি শুধু টিভি স্টুডিও? দর্শক কি নির্দিষ্ট সময়ে বসে না থাকলে খবর জানতে পারবেন না?”—এই প্রশ্নের মধ্যেই অনেকেই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নতুন প্ল্যাটফর্ম বা বিকল্প মিডিয়ার ইঙ্গিত খুঁজছেন।
একইসঙ্গে নিজের জনপ্রিয়তা এবং সমালোচনার বিষয়টিকেও তিনি স্বীকার করে নেন। তাঁর মতে, একদল মানুষ তাঁকে আন্তরিকভাবে সমর্থন করেন, অন্যদিকে বিরোধীরাও সমান তৎপরতায় সমালোচনা চালান। এই দুই মেরুর প্রতিক্রিয়াকেই তিনি নিজের প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, এই ‘এনগেজমেন্ট’ই প্রমাণ করে তিনি কোনও ‘মিনমিনে’ কণ্ঠ নন, বরং প্রভাব বিস্তারকারী এক সংবাদমুখ।
ময়ূখের বিদায়বার্তার শেষাংশে ছিল আরও তীব্র সুর। তিনি পরোক্ষভাবে সমালোচকদের একাংশকে লক্ষ্য করে বলেন, কেউ যদি মনে করে তাঁর প্রস্থানেই “মাঠ ফাঁকা” হয়ে গেল, তবে তারা ভুল করছে। তাঁর কথায়, “খেলা এখনও শুরুই হয়নি”—এই মন্তব্য ঘিরেই সবচেয়ে বেশি জল্পনা তৈরি হয়েছে।
সংবাদমহলের একাংশের মতে, এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ময়ূখ খুব শীঘ্রই নতুন কোনও প্ল্যাটফর্ম বা উদ্যোগ নিয়ে সামনে আসতে পারেন। ডিজিটাল মিডিয়া, স্বাধীন সাংবাদিকতা বা সরাসরি জনসংযোগের কোনও নতুন ফর্ম্যাট—সবকিছু নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা সংবাদমাধ্যমে একাধিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বাড়বাড়ন্ত, সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এবং দর্শকের অভ্যাসের পরিবর্তন—সব মিলিয়ে টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমের প্রচলিত কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের পদত্যাগকে অনেকেই বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই দেখছেন।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ময়ূখের বক্তব্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানের উল্লেখ থাকায়, তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি কি সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশ করবেন, নাকি সাংবাদিকতার নতুন ধারা তৈরি করবেন—তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।
তবে এত কিছুর পরেও ময়ূখ নিজে আপাতত রহস্য বজায় রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি পরে দেবেন। এই ঘোষণার পর থেকেই তাঁর সমর্থক এবং বিরোধী—উভয় শিবিরেই তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ময়ূখ রঞ্জন ঘোষের রিপাবলিক বাংলা ত্যাগ শুধুমাত্র একটি চাকরি পরিবর্তনের ঘটনা নয়—বরং এটি বাংলা সংবাদ জগতের চলমান পরিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন নজর সবার—এই বহুল আলোচিত বিদায়ের পর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, এবং তা সংবাদমাধ্যম ও জনমত গঠনের ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।






