পাণ্ডুয়ায় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা
৫ বছর পর স্বামীর ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড**
নাজরানা খাতুন মৃত্যুকাণ্ডে চুঁচুড়া আদালতের রায় • জরিমানার নির্দেশও
নিজস্ব সংবাদদাতা, চুঁচুড়া:
পাঁচ বছর আগে পাণ্ডুয়া থানার অন্তর্গত এলাকায় গৃহবধূ নাজরানা খাতুনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী মহম্মদ রাজাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দিল চুঁচুড়া আদালত। মঙ্গলবার বিচারক মামলার যাবতীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ ও শুনানি শেষে এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পর আদালত কক্ষেই ভেঙে পড়েন দোষী মহম্মদ রাজা।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নাজরানা খাতুনের সঙ্গে মহম্মদ রাজার বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম কয়েক মাস স্বাভাবিক থাকলেও পরে টাকা ও অলঙ্কারের দাবিতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
২০২১ সালের ২৭ জুন শ্বশুরবাড়ি থেকে নাজরানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এরপর মৃতার বাবা পাণ্ডুয়া থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেন।
সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গ্যোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করেছে। আসামী শুরু থেকেই জেল হেফাজতে ছিল। কাস্টডি ট্রায়াল হয়েছে।”
জেলার পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন জানান, “মৃতের পরিবার আইনের মাধ্যমে ন্যায় বিচার পেয়েছে।”
এই রায় ফের একবার পণপ্রথা ও গার্হস্থ্য নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিল বলে মত আইনি মহলের।

