এসআইআর শুনানিতে ডেকে হয়রানির অভিযোগ, পান্ডুয়ায় বিস্ফোরক মন্তব্য জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার রহিম নবীর
৯০ ঊর্ধ্ব বাবাকেও শুনানিতে ডাকার অভিযোগ • নির্বাচন-পূর্ব ভোটার তালিকা সংশোধনকে ‘তৃণমূল বিরোধী চক্রান্ত’ বলে কটাক্ষ
পান্ডুয়া, অমিত কুমার মন্ডল: পশ্চিমবঙ্গে চলমান স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হল পান্ডুয়ায়। শনিবার বেলা এগারোটা নাগাদ পান্ডুয়া রেগুলেটেড মার্কেটের শুনানি কেন্দ্রে এসে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুললেন জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার রহিম নবি। তাঁর অভিযোগ—ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকদের অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।
এনুমারেশন ফর্ম পূরণের পর শুরু হওয়া শুনানি পর্বে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পরিচিত ও নামী ব্যক্তিত্বদের ডাকা হয়েছে। সেই তালিকায় এদিন নাম উঠে আসে পান্ডুয়ার বাসিন্দা রহিম নবীরও। শুধু তাই নয়, ফুটবলারের অভিযোগ, তাঁর পরিবারের প্রায় সকল সদস্যকেই শুনানিতে ডাকা হয়েছে।
শুনানি কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রহিম নবি বলেন,
“জাতীয় দলের হয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র মিলিয়ে একশোরও বেশি ম্যাচ খেলেছি। দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি, ক্যাপ্টেনশিপ করেছি। অথচ আজ আমাকেই ভোটার হিসেবে প্রমাণ দিতে শুনানিতে হাজির হতে হচ্ছে।”
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে প্রবীণদের প্রসঙ্গে। রহিম নবীর দাবি,
“আমার বাবা ৯০ বছরের ঊর্ধ্বে। তাঁর মতো বহু বয়স্ক মানুষকে শুনানিতে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এটাই কি গণতন্ত্র?”
নির্বাচনের ঠিক আগে এই শুনানি প্রক্রিয়ার সময়কাল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য,
> “এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট নষ্ট করতেই এই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। কিন্তু বাংলায় এতে কোনো কাজ হবে না।”
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে সরাসরি নিশানা করে রহিম নবি আরও বলেন,
“নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ বা নির্বাচন কমিশনের কর্তারা যতই চেষ্টা করুন না কেন, পশ্চিমবঙ্গে আমাদের সরকারই থাকবে। বাংলার ভোটারদের এভাবে হয়রানি করে তৃণমূলের ভোট কমানো যাবে না।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পান্ডুয়া ব্লকের একাধিক অঞ্চল থেকেই একই ধরনের অভিযোগ উঠে আসছে। বহু প্রবীণ নাগরিক ও সাধারণ ভোটারের দাবি—নথি থাকা সত্ত্বেও বারবার শুনানিতে হাজির হতে বলা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া আইনসম্মত হলেও তার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে নির্বাচনের মুখে এই ধরনের শুনানি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ বাড়াচ্ছে।
যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে আগেই জানানো হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই হচ্ছে এবং কোনও ভোটারকে অকারণে বাদ দেওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে পান্ডুয়ায় জাতীয় স্তরের এক ক্রীড়াবিদের প্রকাশ্য ক্ষোভ সেই দাবিকে নতুন করে বিতর্কের মুখে ফেলল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





