বিশ্বমঞ্চে ভারতের গৌরব: কুলপির মেয়ে নফিসা খাতুনের স্বর্ণজয় অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্সে

Published on: July 17, 2026
---Advertisement---

 বিশ্বমঞ্চে ভারতের গৌরব: কুলপির মেয়ে নফিসা খাতুনের স্বর্ণজয় অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্সে

৪০০ মিটার দৌড়ে সোনা জিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নাম উজ্জ্বল, গ্রামে উৎসবের আবহ

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুলপি: বিশ্বের দরবারে আবারও উজ্জ্বল হল ভারতের নাম। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি ব্লকের বেলপুকুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঙ্গাফলা গ্রামের মেয়ে নফিসা খাতুন অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ৪০০ মিটার দৌড়ে স্বর্ণপদক জিতে দেশের পাশাপাশি নিজের জেলা ও গ্রামের নাম আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিষ্ঠা করলেন।

বিশ্বজয়

 

নসিফার পরিবারকে সংবর্ধিত করা হচ্ছে

 

চীনে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে সোনা জয়ের পর তাঁর বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। রাঙাফলা গ্রামে নফিসাকে এক ঝলক দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে ক্রীড়াপ্রেমীরা।

একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া নফিসার ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল। গ্রামের রাস্তায় নিয়মিত অনুশীলনের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাঁর অ্যাথলেটিক্স যাত্রা। প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে ধাপে ধাপে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন তিনি।

শিক্ষাজীবনের শুরু কাকদ্বীপ বামানগর হাইস্কুলে। পরবর্তীতে করঞ্জলী কালিকা গার্লস স্কুলে ভর্তি হয়ে অ্যাথলেটিক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। পরে গাজীরমহল জি.সি. হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে উত্তর ২৪ পরগনার অ্যাডামাস কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি কলকাতার একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যান।

নফিসার বাবা শফিউল্লা জমাদার একজন ক্ষুদ্র কৃষক এবং মা সিদ্দিকা খাতুন একজন আশা কর্মী। দু’জনেই খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকায় ছোট থেকেই মেয়েকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। বিশেষত মায়ের অপূর্ণ স্বপ্নই আজ মেয়ের সাফল্যের মাধ্যমে পূর্ণতা পেল।

পরিবারের তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নফিসার এই সাফল্য নতুন দিশা দেখিয়েছে। বড় বোন তাবাসসুম জাহানারা স্নাতক সম্পন্ন করেছেন, দ্বিতীয় বোন সোনিয়া শাহানা আইন নিয়ে পড়াশোনা করছেন এবং ছোট ভাই সাকিবাল পাঠান বর্তমানে স্কুলের ছাত্র।

স্বর্ণপদক জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামে আনন্দের জোয়ার। বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নফিসাকে সংবর্ধনা জানান এবং আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

একসময়ের গ্রামের মাটিতে দৌড়ানো সেই মেয়েই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের হয়ে সোনা জিতে প্রমাণ করে দিলেন—সঠিক লক্ষ্য, কঠোর পরিশ্রম ও পরিবারের সমর্থন থাকলে প্রত্যন্ত গ্রামের সন্তানও বিশ্বের দরবারে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।

নফিসা খাতুনের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে গর্বিত কুলপি, গর্বিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা, গর্বিত সমগ্র ভারত।

 

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now