এসভিডিআই-র উদ্যোগে রক্তদান ও বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবির: বৃষ্টির মধ্যেও মানবিক বার্তা
সিঙ্গুর টিভি নিউজ :
সমাজসেবার লক্ষ্যকে সামনে রেখে ‘স্বামী বিবেকানন্দ ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ফাউন্ডেশন’ (এসভিডিআই)-এর উদ্যোগে সিঙ্গুরে আয়োজন করা হল এক রক্তদান শিবির ও বৃহৎ বিনামূল্যে চিকিৎসা শিবির। প্রতিকূল আবহাওয়ার মাঝেও এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রক্তদান শিবিরে প্রায় ১২০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তবে দিনের শুরু থেকেই লাগাতার বৃষ্টি, জলজট ও যানবাহন সমস্যার কারণে প্রত্যাশিত সংখ্যক রক্তদাতা উপস্থিত হতে পারেননি। তবুও আয়োজকদের আশা অনুযায়ী প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল এবং সেই লক্ষ্যে শিবির পরিচালিত হয়।

রক্তদান শিবিরের পাশাপাশি আয়োজিত চিকিৎসা শিবিরে ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য পরিষেবা। এর মধ্যে ছিল ডেন্টাল চেকআপ, ইসিজি পরীক্ষা, চোখের পরীক্ষা (আই চেকআপ), সুগার (ডায়াবেটিস) ও রক্তচাপ (প্রেশার) পরীক্ষা। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে রোগীদের বিনামূল্যে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়। চোখের সমস্যায় ভুগছেন এমন বহু মানুষকে বিনামূল্যে চশমাও প্রদান করা হয়।

এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুশান্ত কুমার বেরা এবং হরিপালের বিধায়িকা মধুমিতা ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্টেট দিশা কমিটির সদস্য তাপস সর্দার, বিশিষ্ট শিক্ষক গুরুদাস দাস, সমাজসেবী তপন কুমার দাস, চিকিৎসক ডাঃ উদয়ন দাস সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।

চিকিৎসা পরিষেবায় সহযোগিতা করেন রামকৃষ্ণ মিশন ফাউন্ডেশন-এর চিকিৎসক দল এবং ‘শিরাম মোবাইল ফ্যামিলি ট্রাস্ট’। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণে শিবিরটি আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।
এই শিবিরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ। শিশুদের মধ্যে বই, খাতা ও কলম বিতরণ করা হয়। সাধারণত রক্তদান শিবিরে উপহার হিসেবে দৈনন্দিন সামগ্রী দেওয়া হলেও, এসভিডিআই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে ‘বই দান’-এর মাধ্যমে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
সংগঠনের কর্ণধার সুরজিৎ জানান, “আমরা চাই সমাজের উন্নয়ন হোক সচেতনতার মাধ্যমে। তাই প্রচলিত উপহারের পরিবর্তে শিক্ষামূলক সামগ্রী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
উল্লেখ্য, এই সংগঠনটি গত তিন বছরের প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ ২০২৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়। এর আগে দুই বছর ধরে সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছিলেন। এবারের আয়োজনই ছিল তাদের প্রথম বৃহৎ আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় এডুকেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল সংলগ্ন একটি ব্যক্তিগত প্রাঙ্গণে, যা ব্যবহারের জন্য প্রদান করেন সমাজসেবী তপন কুমার দাস।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন তাপস সর্দার। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও এই উদ্যোগ সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ আকারে এই ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে এবং সকলকে সমাজসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।






