তারকেশ্বরে মহকুমার দাবি জোরদার, আরামবাগ জেলা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত
হুগলি, তারকেশ্বর :
আরামবাগকে পৃথক জেলা হিসেবে গড়ে তোলার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছে স্থানীয় মানুষ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। সম্প্রতি এই বিষয়ে প্রশাসনিক স্তরে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, তারকেশ্বরবাসীর মধ্যে নতুন করে উঠেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—“আরামবাগ জেলা হলে তারকেশ্বর কী পাবে?”
এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই তারকেশ্বরে মহকুমা (Sub-Division) গঠনের দাবি জোরদার করেছেন স্থানীয় নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র জেলা গঠন নয়, তারকেশ্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও জনবহুল অঞ্চলে প্রশাসনিক পরিকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে আরামবাগকে জেলা করার জন্য লড়াই করেছি এবং সেই দাবি পূরণ হলে তা অবশ্যই স্বাগতযোগ্য। বর্তমানে সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক কাজের জন্য চন্দননগর পর্যন্ত যেতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ভোগান্তির। আরামবাগ জেলা হলে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।”
তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তারকেশ্বরের গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে একটি মহকুমা গঠন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাঁর কথায়, “তারকেশ্বর সারা বিশ্বের কাছে একটি পরিচিত তীর্থস্থান। এখানে সারা বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর আগমন ঘটে। বিশেষ করে শ্রাবণী মেলা ও চৈত্র মেলার সময় মানুষের ঢল নামে। কিন্তু সেই তুলনায় এখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিকাঠামো নেই।”
স্থানীয়দের দাবি, তারকেশ্বরে এখনও একটি মানসম্মত হাসপাতাল বা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। অথচ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি এখানে মহকুমা গঠন করা হয়, তাহলে হাসপাতাল, কলেজ, প্রশাসনিক অফিস, আইন-আদালত—সবকিছুই এক জায়গায় পাওয়া যাবে।
এই দাবিকে সমর্থন করে তারকেশ্বরের বাসিন্দা ও প্রবীণ আইনজীবী অজয় কুমার দাস বলেন, “আরামবাগ জেলা হলে আমরা খুশি, কিন্তু তারকেশ্বরে মহকুমা না হলে মানুষের সমস্যার সমাধান হবে না। বর্তমানে আমাদের চন্দননগর মহকুমা অফিস ও আদালতে যেতে হয়, যা খুবই অসুবিধাজনক। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ ও সাধারণ মানুষের জন্য এটি একটি বড় সমস্যা।”
তিনি আরও বলেন, “যদি তারকেশ্বরে মহকুমা গড়ে ওঠে, তাহলে এখানেই আদালত, মহকুমা শাসকের দফতর (SDO Office), এসডিপিও অফিস সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিষেবা পাওয়া যাবে। এতে স্থানীয় মানুষ যেমন উপকৃত হবেন, তেমনই বাইরে থেকে আসা পুণ্যার্থীরাও উন্নত পরিষেবা পাবেন।”
উল্লেখ্য, অজয় কুমার দাস দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে চন্দননগর আদালতে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তিনি তারকেশ্বর টাউন মন্ডলের প্রাক্তন সভাপতি ও প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, তারকেশ্বর শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত প্রশাসনিক নজরদারি ও পরিকাঠামোর অভাবে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তারকেশ্বরে মহকুমা গঠন করা হলে শুধুমাত্র স্থানীয় উন্নয়ন নয়, গোটা হুগলি জেলার উন্নয়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন হওয়ার ফলে এই অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব।
সব মিলিয়ে, আরামবাগকে জেলা করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েও তারকেশ্বরবাসীর একটাই স্পষ্ট বার্তা—তারকেশ্বরের স্বার্থে অবিলম্বে একটি মহকুমা গঠন করা হোক। এতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে
সারা রাজ্যের পুণ্যার্থী—সকলেই উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।






