সিঙ্গুরে ১২ ফুটের গণেশ, উমাপুত্র ভক্তবৃন্দের পুজোয় মিলনমেলার আবহ
বন্ধুত্বের হাত ধরে শুরু, এখন এলাকার মানুষেরও পুজো; ভোগ বিতরণ-সহ একাধিক আয়োজনের পরিকল্পনা
নিজস্ব সংবাদদাতা, সিঙ্গুর:
বন্ধুত্বের হাত ধরে শুরু হয়েছিল পথচলা। কয়েকজন বন্ধু একসঙ্গে উদ্যোগ নিয়ে শুরু করেছিলেন গণেশ পুজো। সময়ের সঙ্গে সেই ছোট্ট আয়োজনই এখন এলাকার মানুষের অন্যতম আকর্ষণের পুজোয় পরিণত হয়েছে। সিঙ্গুরের স্বর্ণপ্রভা মল্লিক রোড, সিঙ্গুর ক্লাব ও মহামায়া স্কুলের সামনের এলাকায় এ বছরও আয়োজন করা হয়েছে গণেশ পুজো। আর এই পুজোর আয়োজনে রয়েছেন ‘উমাপুত্র ভক্তবৃন্দ’।
প্রতি বছরই নিজেদের মতো করে গণেশ আরাধনার আয়োজন করেন এই পুজোর উদ্যোক্তারা। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বরং এবার প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার বিশাল গণেশ প্রতিমা তৈরি করে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিমাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। পুজোর দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের উৎসাহ।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, এই পুজোর পিছনে কোনও একক ব্যক্তির উদ্যোগ নেই। বন্ধুরা মিলে, সকলে একসঙ্গে হাত মিলিয়েই এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। সেই কারণেই পুজোর নামের মধ্যেও রয়েছে একতার ভাবনা—‘উমাপুত্র ভক্তবৃন্দ’। একসঙ্গে কাজ করা, একসঙ্গে আনন্দ করা এবং এলাকার মানুষকে এই উৎসবের সঙ্গে যুক্ত করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।
শুধু পুজোর দিন প্রতিমা দর্শন নয়, গণেশ পুজোকে ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করাও উদ্যোক্তাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাড়ার বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষজনও যাতে এই পুজোয় অংশ নিতে পারেন, সেই ভাবনাতেই প্রতিবছর আয়োজন করা হয় বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ ভোগ বিতরণ। পুজো উপলক্ষে কয়েক দিন ধরে ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোগ বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তাদের আশা, এলাকার মানুষজনও আগের বছরগুলির মতো এবারও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই আয়োজনে অংশ নেবেন।
পুজোকে ঘিরে শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, মানুষের মিলনকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বহু মানুষ এই পুজোয় আসেন। ছোট থেকে বড়—সব বয়সের মানুষকেই পুজোর সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা থাকে। ফলে ধীরে ধীরে এই আয়োজন একটি সামাজিক মিলনক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে।
উদ্যোক্তাদের কথায়, প্রতি বছর তাঁরা চেষ্টা করেন আগের বছরের তুলনায় পুজোকে আরও সুন্দর করে তুলতে। প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে পুজোর অন্যান্য আয়োজন—সব ক্ষেত্রেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকে। এবছরও সেই পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ করে ১২ ফুটের গণেশ প্রতিমা এবারের পুজোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বিশাল প্রতিমাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পুজোর দিন এলাকায় দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়বে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা।
সিঙ্গুরের স্বর্ণপ্রভা মল্লিক রোডের এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে স্থানীয় মানুষের আবেগও। কারণ এটি শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বহু মানুষের কাছে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, একসঙ্গে সময় কাটানো এবং উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার একটি সুযোগ।
উমাপুত্র ভক্তবৃন্দের সদস্যরা জানান, তাঁরা চান এই পুজো আগামী দিনেও একইভাবে এগিয়ে চলুক। এলাকার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে, সকলের সহযোগিতায় এবং বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও শক্ত করে গণেশ পুজোকে একটি বৃহত্তর সামাজিক উৎসবে পরিণত করাই তাঁদের লক্ষ্য।
এবারের পুজো উপলক্ষে বিশেষ পরিকল্পনাও রয়েছে উদ্যোক্তাদের। পুজোর পাশাপাশি ভোগ বিতরণ এবং অন্যান্য আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পুজোকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও মানুষ বাদ না পড়েন, সেই বিষয়েও নজর থাকবে বলে জানা গিয়েছে।
সিঙ্গুর স্কুল মোড়ের এই গণেশ পুজো তাই এখন শুধু উমাপুত্র ভক্তবৃন্দের নয়, স্থানীয় মানুষেরও উৎসব। বন্ধুত্ব দিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, সময়ের সঙ্গে সেই পথচলায় যুক্ত হয়েছেন এলাকার বহু মানুষ। আর সেই মিলিত প্রয়াসেই এবছরও সিঙ্গুরে হতে চলেছে ১২ ফুটের গণেশ আরাধনা।
ভক্তি, বন্ধুত্ব আর মানুষের মিলন—এই তিনের সমন্বয়েই সিঙ্গুরের স্বর্ণপ্রভা মল্লিক রোডে এবছরও উমাপুত্র ভক্তবৃন্দের গণেশ পুজো ঘিরে তৈরি হচ্ছে উৎসবের আবহ।

ডিজাইনার পোশাক থেকে শুরু করে রেডিমেড, কাস্টম টেইলরিং ও উন্নত মানের ফ্যাব্রিকস—সবকিছুর জন্য এক ঠিকানা বিশ্বজয়ন্তী।
আপনার পছন্দ ও মাপ অনুযায়ী পোশাকে দিন নিজের স্টাইলের ছোঁয়া। 🧵✂️
📍 ঠিকানা: স্বর্ণপ্রভা মল্লিক রোড, সিঙ্গুর, হুগলী – ৭১২৪০৯
📌 সিঙ্গুর ক্লাবের সংলগ্নে, মহামায়া স্কুলের বিপরীতে
📞 যোগাযোগ: 9674855556
বিশ্বজয়ন্তী — ডিজাইনার | রেডিমেড | কাস্টম টেইলরিং | ফ্যাব্রিকস










