ঋণ প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে পাল্টা দাবি ইমরাজ শেখের, ‘নথি নিয়ে আইনি পথে যেতে প্রস্তুত’
সুহানা ট্রাস্টের প্রেসিডেন্টের দাবি, বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিরোধকে অন্যভাবে তুলে ধরা হচ্ছে; অমিত হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাল্টা আইনি পদক্ষেপের কথাও জানালেন তিনি
ঋণ, কাজের প্রতিশ্রুতি এবং টাকা ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে আসা একটি খবরের প্রেক্ষিতে এবার নিজের বক্তব্য জানালেন সুহানা ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট ইমরাজ শেখ। তাঁর দাবি, তাঁকে এবং তাঁর সংস্থাকে ঘিরে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার একাধিক বিষয় ভুল ও বিভ্রান্তিকর। পাশাপাশি, গোটা ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা করতে এবং প্রয়োজনীয় নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করতে তিনি প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।
তবে এই ঘটনায় অভিযোগকারী সদস্যদের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই মুহূর্তে কোনও পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য বলে ধরে নেওয়ার অবকাশ নেই।
২০১৮ সাল থেকে মহিলাদের স্বনির্ভর করার উদ্যোগ, দাবি ইমরাজের
সাংবাদিকদের সামনে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইমরাজ শেখ জানান, ২০১৮ সাল থেকে সুহানা ট্রাস্টের মাধ্যমে মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মহিলাদের বিভিন্ন কাজ শেখানো, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিজেদের উপার্জনের পথ তৈরি করে দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
ইমরাজের দাবি, প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিনিময়ে তিনি কখনও সদস্যদের কাছ থেকে টাকা দাবি করেননি। তাঁর বক্তব্য, মহিলারা নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী মেশিন কিনে কাজ করতেন এবং কীভাবে সেই কাজের মাধ্যমে আয় করা যায়, সে বিষয়ে তাঁদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশ দেওয়া হতো।
ট্রাস্টের তরফে কাদের কি অর্থ প্রদান করা হয়েছে, সেই তথ্যাদি
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি বলেন, সংস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল মহিলাদের স্বনির্ভর করে তোলা। তাই প্রশিক্ষণ ও স্বনির্ভরতার উদ্যোগকে প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
ট্রেডিং ও শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগের প্রস্তাব, অমিত হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ইমরাজ শেখের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসের পর কলকাতা থেকে অমিত হালদার নামে এক ব্যক্তি তাঁর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইমরাজের দাবি, ওই ব্যক্তি ট্রাস্টের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে ট্রেডিং ও শেয়ার মার্কেট সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ এবং বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।
ইমরাজের বক্তব্য, কয়েকজন সদস্য ওই প্রস্তাবে আগ্রহী হয়ে বিনিয়োগ করেন। তিনিও নিজের পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট লেনদেনের বিষয়ে ব্যাংক স্টেটমেন্ট-সহ বিভিন্ন নথি তাঁর কাছে রয়েছে।
তাঁর আরও অভিযোগ, প্রথম দিকে লাভের টাকা দেওয়া হলেও পরবর্তী সময়ে টাকা ফেরত এবং মুনাফা নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। একপর্যায়ে অমিত হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও অসুবিধা হচ্ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
এই পরিস্থিতিতে সদস্যদের আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে নিজের তরফ থেকে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন ইমরাজ। তবে পরবর্তীতে আর্থিক চাপের কারণে সেই দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে বলে তাঁর বক্তব্য।
অমিত হালদারের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক অপরাধ সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের কাছেও ইমেল পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। এই অভিযোগগুলির বিষয়ে অমিত হালদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা-ও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
কয়েকজন সদস্যের অভিযোগ ঘিরে পাল্টা বক্তব্য
ইমরাজ শেখের বক্তব্যে উঠে এসেছে কয়েকজন সদস্যের নাম, যাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন ও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইমরাজের অভিযোগ, অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা এবং সেই দাবি পূরণ না হওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে বিরোধ বাড়তে থাকে। তাঁর আরও দাবি, এই বিরোধের জেরে তাঁর অফিসের কাজকর্ম ব্যাহত হয়েছে এবং সংস্থার কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সদস্যরা ঠিক কী অভিযোগ করেছেন, তাঁদের দাবি অনুযায়ী কত টাকা পাওনা রয়েছে এবং সেই অর্থের প্রকৃতি কী—তা নির্ধারণের জন্য তাঁদের বক্তব্য, চুক্তিপত্র, ব্যাংক লেনদেনের তথ্য ও অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কেবল এক পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে আর্থিক বিরোধের প্রকৃতি বা দায় নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য সামনে আসা জরুরি।
হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ, নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ
নিজের বক্তব্যে ইমরাজ শেখ আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো হয়েছে। তাঁর দাবি, সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন সহকর্মীকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট একটি তারিখকে কেন্দ্র করে বাড়ি ঘেরাও এবং ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ইমরাজ জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন এবং পুলিশ সুপারকেও জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আইনজীবীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশের মাধ্যমে তাঁদের কাছে নিজেদের দাবির সমর্থনে বৈধ নথি পেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইমরাজের বক্তব্য, কারও কাছে সত্যিই টাকা পাওনা থাকলে সেই দাবি যথাযথ নথির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা উচিত। একই সঙ্গে, হুমকি বা ভয় দেখানোর অভিযোগ থাকলে তারও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
‘বৈধ নথি থাকলে টাকা ফেরতের বিষয়ে সহযোগিতা করব’
সাংবাদিকদের সামনে ইমরাজ শেখের অন্যতম বক্তব্য ছিল, তিনি আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যেতে চান না। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যদি বৈধ নথি দিয়ে তাঁদের পাওনা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আইন মেনে টাকা ফেরতের বিষয়ে তিনি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
তাঁর বক্তব্য, এই মুহূর্তে তাঁর কাছে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, চুক্তিপত্র এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি রয়েছে। প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সামনে সেই নথি পেশ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁর সংস্থা ও পরিবারের সামাজিক সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর মতে, কোনও আর্থিক বিরোধের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথির সত্যতা যাচাই করা এবং অন্য পক্ষের বক্তব্য নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদমাধ্যমের কাছে তথ্য যাচাইয়ের আবেদন
নিজের বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ইমরাজ শেখ সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর আবেদন, কোনও অভিযোগ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট নথি, আর্থিক লেনদেন এবং অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত—উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা হোক।
তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ মূলত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হবে। প্রশাসন ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ যে নির্দেশ দেবেন, তা মেনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত বলেও দাবি করেন।
তদন্তেই স্পষ্ট হবে প্রকৃত ঘটনা
সুহানা ট্রাস্টকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে এখন একাধিক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া প্রয়োজন। বিনিয়োগের অর্থ কোথায় গিয়েছে, কী শর্তে টাকা জমা হয়েছিল, সদস্যদের কত টাকা পাওনা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, ইতিমধ্যে কত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কী ধরনের চুক্তি হয়েছিল—এই বিষয়গুলি নথির ভিত্তিতে যাচাই করা জরুরি।
পাশাপাশি, ইমরাজ শেখের তোলা হুমকি ও হয়রানির অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বক্তব্য এবং অমিত হালদারের প্রতিক্রিয়া সামনে এলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সব মিলিয়ে, সুহানা ট্রাস্টকে ঘিরে আর্থিক বিরোধ ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনায় এখন নজর তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়ার দিকে। কোনও পক্ষকে আগাম দোষী সাব্যস্ত না করে সমস্ত তথ্য, নথি ও বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসা প্রয়োজন।
প্রতিবেদন: সিঙ্গুর টিভি নিউজ
বিঃদ্রঃ বক্তার মতামতের জন্য চ্যানেল কর্তৃপক্ষ কোনোরূপ দায়বদ্ধ নহে!

ডিজাইনার পোশাক থেকে শুরু করে রেডিমেড, কাস্টম টেইলরিং ও উন্নত মানের ফ্যাব্রিকস—সবকিছুর জন্য এক ঠিকানা বিশ্বজয়ন্তী।
আপনার পছন্দ ও মাপ অনুযায়ী পোশাকে দিন নিজের স্টাইলের ছোঁয়া। 🧵✂️
📍 ঠিকানা: স্বর্ণপ্রভা মল্লিক রোড, সিঙ্গুর, হুগলী – ৭১২৪০৯
📌 সিঙ্গুর ক্লাবের সংলগ্নে, মহামায়া স্কুলের বিপরীতে
📞 যোগাযোগ: 9674855556
বিশ্বজয়ন্তী — ডিজাইনার | রেডিমেড | কাস্টম টেইলরিং | ফ্যাব্রিকস

8697937345















