উত্তরপাড়ায় ‘যোগীরাজের ওষুধ’ হুঁশিয়ারি, আইনশৃঙ্খলা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জনের
পুলিশকে ‘স্বাধীনভাবে কাজ’ করার বার্তা, তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনীকে সতর্কবার্তা—সংবাদ সম্মেলনে একাধিক ইস্যুতে সরব উত্তরপাড়া প্রার্থী
হুগলির উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই আবহেই সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি প্রার্থী দীপাঞ্জন চক্রবর্তী। তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে হুঁশিয়ারি দেন—“জিতে এলে উত্তরপ্রদেশের মতো যোগীরাজের ওষুধ দেওয়া হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে দীপাঞ্জনের বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। তাঁর দাবি, উত্তরপাড়ায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই তিনি কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
দীপাঞ্জন বলেন, “আমরা ভারতীয় জনতা পার্টির একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ সংগঠন। এখানে ব্যক্তিগত প্রচার বা প্রতিশ্রুতির জায়গা নেই। আমরা সমষ্টিগতভাবে দেশের উন্নয়ন এবং সমাজের নিরাপত্তার জন্য কাজ করি।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি জিতলে আমার কোনও ব্যক্তিগত ভূমিকা থাকবে না—জিতবে ভারতবর্ষ, জিতবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী, জিতবে সাধারণ মানুষ।”
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা স্পষ্ট করে তিনি জানান, জয়ের পর প্রথম ৩০ দিনের মধ্যেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রথমত, তিনি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তাঁর কথায়, “পুলিশকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলব—আজ থেকে আপনারা শুধুমাত্র সংবিধান এবং আইনের শাসন মেনে চলবেন। কোনও রাজনৈতিক চাপ নয়, কোনও দলের কথা নয়—আইন অনুযায়ী কাজ করবেন।”
দ্বিতীয়ত, তৃণমূলের তথাকথিত ‘গুন্ডাবাহিনী’-র বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন তিনি। দীপাঞ্জন বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের ডেকে চা-মিষ্টি খাওয়াব। তারপর স্পষ্ট করে বলব—গুন্ডামি, দাদাগিরি, সন্ত্রাস বন্ধ করুন। না হলে উত্তরপ্রদেশে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তেমনই ব্যবস্থা এখানে নেওয়া হবে।”
এই প্রসঙ্গে তিনি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath-এর প্রশাসনিক কড়াকড়ির উদাহরণ টানেন। তাঁর দাবি, “আইন ভাঙলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, তাহলেই সমাজে শান্তি ফিরবে।”
নারী নিরাপত্তা নিয়েও জোরালো অবস্থান নেন বিজেপি প্রার্থী। তিনি বলেন, “উত্তরপাড়ার মেয়েরা যেন রাত ১০টা, ১২টা বা তার পরেও নিশ্চিন্তে বেরোতে পারেন—এই পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।” তাঁর বক্তব্য, “ভয়মুক্ত সমাজ গড়তে হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—কোনও অপরাধী, সে যে দলেরই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ স্টেশনে সুপারিশ বা চাপ সৃষ্টি করার রাজনীতি আমরা করব না।”
এদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর পাশে উত্তরপ্রদেশের এক বিধায়কও উপস্থিত ছিলেন, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপির তরফে উত্তরপ্রদেশ মডেলকে সামনে রেখে বাংলায় আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে জোরদার প্রচার চালানো হচ্ছে বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
তবে দীপাঞ্জনের এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই বিরোধীরা সমালোচনায় সরব হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি বাংলায় ভয়ের রাজনীতি কায়েম করতে চাইছে এবং বহিরাগত মডেল চাপিয়ে দিতে চাইছে।
সব মিলিয়ে, উত্তরপাড়ার নির্বাচনী লড়াইয়ে আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিজেপি প্রার্থীর এই কড়া বার্তা ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই দেখার।








