সিঙ্গুরে পায়ে হেঁটে প্রচারে বেচারাম মান্না, উন্নয়ন বনাম সমস্যার মিশ্র ছবি
সিঙ্গুর টিভি নিউজ ওয়েবডেস্ক : হুগলির সিঙ্গুর বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটের আবহ ক্রমশই তীব্র হচ্ছে। সকাল সকাল প্রচারে বেরিয়ে পড়লেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট প্রার্থী বেচারাম মান্না। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম মুখ হিসেবে পরিচিত তিনি। ২০১১ ও ২০১৬ সালে হরিপাল থেকে এবং ২০২১ সালে সিঙ্গুর থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবারের লড়াইতেও আত্মবিশ্বাসী মান্না।
এদিন বারুইপাড়া পলতাগড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা জুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে প্রচার করেন তিনি। ইন্দ্রখালি, বোড়াই খাড়াপাড়া, শামপুর সহ একাধিক গ্রাম ঘুরে মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছে যান। প্রচারের সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা ও অভাব-অভিযোগ সরাসরি শোনেন তিনি।
গ্রামাঞ্চলে দেখা গেল উন্নয়নের একটি দৃশ্যমান চিত্র—পাকা রাস্তা, নতুন করে বসানো স্ট্রিট লাইট এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা। বিশেষ করে লক্ষীর ভান্ডার সহ রাজ্য সরকারের নানা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকেই বলেন, “দিদির সরকার আমাদের পাশে আছে, আমরা উপকৃত হচ্ছি।”
তবে উন্নয়নের পাশাপাশি কিছু সমস্যাও স্পষ্টভাবে উঠে আসে। একাধিক এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। কোথাও কোথাও স্ট্রিট লাইট বসানোর কাজ অসম্পূর্ণ। স্থানীয়দের অভিযোগ, জল সরবরাহ নিয়মিত নয়, ফলে দৈনন্দিন জীবনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
https://www.facebook.com/share/v/1aLtb9fHRd/
প্রচারের ফাঁকেই বেচারাম মান্না বলেন, “আমি সারা বছর মানুষের পাশে থাকি। যে সারা বছর পড়াশোনা করে, পরীক্ষার সময় তার সমস্যা হয় না—আমিও সেভাবেই কাজ করি। মানুষের ভালোবাসাই আমার শক্তি।” তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উন্নয়নমূলক কাজের ওপর ভরসা রেখেই মানুষ আবারও তৃণমূলকে সমর্থন করবে।
গত বিধানসভা নির্বাচনে সিঙ্গুর কেন্দ্র থেকে বেচারাম মান্না পেয়েছিলেন ১,০০,৭৭৭ ভোট (৪৮.১৫%)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য পেয়েছিলেন ৭৫,১৫৪ ভোট। ব্যবধান ছিল ২০,৩২৭ ভোটের। এবারের নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী ডাঃ অরূপ কুমার দাস, সিপিআই(এম)-এর দেবাশিষ চ্যাটার্জি এবং কংগ্রেসের বরুণ কুমার মালিক সহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
এদিন প্রচারের সময় রুস্তামপুর এলাকার একটি বড় সমস্যার কথাও উঠে আসে। রেল লাইনের কারণে গ্রামটি কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেলগেট বন্ধ থাকায় শিশুদের স্কুলে যাওয়া, এমনকি ভোট দিতেও সমস্যা হতে পারে। আন্ডারপাস তৈরির দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনও কোনও বাস্তব পদক্ষেপ হয়নি।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা জানান, রেল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনও সমাধান মেলেনি। বিকল্প রাস্তার চেষ্টা চলছে, তবে তা বাস্তবায়িত হতে সময় লাগবে।
সব মিলিয়ে সিঙ্গুরে এবার ভোটের লড়াই উন্নয়ন বনাম সমস্যার মিশ্র ইস্যুতে ঘুরপাক খাচ্ছে। একদিকে রাজ্য সরকারের প্রকল্পের সুবিধা ও দৃশ্যমান উন্নয়ন, অন্যদিকে জল ও যোগাযোগ সমস্যার মতো দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ—এই দুইয়ের মধ্যেই নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবেন ভোটাররা।
পায়ে হেঁটে গ্রামে গ্রামে পৌঁছে মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে বেচারাম মান্না যে লড়াইকে আরও জোরদার করতে চাইছেন, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, ভোটবাক্সে সেই প্রচারের প্রতিফলন কতটা পড়ে।







