ধুপগুড়িতে বালি-মাটি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য, নদী বদলাচ্ছে গতিপথ, ডুবছে কৃষিজমি
উত্তরবঙ্গের ধুপগুড়ি-তে নির্বাচনের উত্তাপের মাঝেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বালি ও মাটি মাফিয়াদের দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঝাড় আলতা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, প্রশাসন যখন নির্বাচনী দায়িত্বে ব্যস্ত, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গিলান্ডি নদী থেকে অবাধে চলছে বালি ও মাটি তোলার কাজ। অভিযোগ, এই অবৈধ কারবারের সঙ্গে যুক্ত বারোহালিয়ার বাসিন্দা মঙ্গলু ওরাওঁ।
গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও পুলিশের একাংশকে প্রভাবিত করেই এই কাজ দীর্ঘদিন ধরে চালানো হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
এদিকে, লাগাতার বালি ও মাটি তোলার ফলে গিলান্ডি নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এর জেরে আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই কয়েক বিঘা জমির ক্ষতির অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই বিষয়ে পূর্বে মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অভিযুক্তরা।
পরিস্থিতির চাপে পড়ে এখন সংবাদমাধ্যমের দ্বারস্থ হয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ বালি-মাটি তোলা বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
📌 প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনার জেরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে যদি এভাবে প্রাকৃতিক সম্পদের লুটপাট চলে, তবে ভবিষ্যতে তার প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেই আশঙ্কা পরিবেশবিদদের একাংশের।
🎯 উপসংহার
একদিকে নির্বাচন, অন্যদিকে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রশাসন কতটা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।







