আরামবাগে মহিলা আইনজীবীকে নোংরা ছোড়ার অভিযোগ, আটক এক ব্যক্তি
আদালতে যাওয়ার পথে পিছন থেকে হামলার অভিযোগ, উত্তেজনা গার্লস স্কুল সংলগ্ন এলাকায়
সিঙ্গুর টিভি নিউজ ওয়েবডেস্ক :
আরামবাগে প্রকাশ্য রাস্তায় এক মহিলা আইনজীবীকে লক্ষ্য করে নোংরা ছোড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে আরামবাগ গার্লস স্কুল সংলগ্ন এলাকায়। ঘটনার পর এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাময়িক উত্তেজনাও তৈরি হয় এলাকায়।
অভিযোগকারী আইনজীবী ইন্দিরা চন্দ্র জানান, প্রতিদিনের মতো এদিনও তিনি আরামবাগ মহকুমা আদালতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। আদালতের পথে গার্লস স্কুল সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই আচমকাই পিছন দিক থেকে এক ব্যক্তি তাঁর শরীর লক্ষ্য করে নোংরা ছুড়ে দেয় বলে অভিযোগ। আচমকা এমন ঘটনায় তিনি কার্যত হতভম্ব হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় কৌতূহল এবং উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করার চেষ্টা করা হয়। সেই সময় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। এমনকি ওই ব্যক্তি অন্য এক আইনজীবীর সঙ্গেও বচসায় জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এরপর খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আরামবাগ থানার পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, তার পিছনে কোনও পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে অভিযোগকারী আইনজীবীর আগে থেকে কোনও পরিচয় বা বিরোধ ছিল কি না—সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার জেরে আদালতে যাওয়ার পথে আইনজীবী এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দিনের ব্যস্ত সময়ে একটি জনবহুল এলাকায় কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনজীবী মহলের একাংশের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারী আইনজীবী ইন্দিরা চন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কোনও প্ররোচনা ছাড়াই ওই ব্যক্তির আচরণের শিকার হয়েছেন। তবে পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার কারণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও সংগ্রহ করা হতে পারে। আশপাশে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে কি না, থাকলে তাতে ঘটনার কোনও ছবি ধরা পড়েছে কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
অন্যদিকে, যে দ্বিতীয় আইনজীবীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে, তাঁর বিষয়টিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘটনার পর আরামবাগ গার্লস স্কুল সংলগ্ন এলাকায় কিছু সময়ের জন্য সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
প্রকাশ্য রাস্তায় একজন মহিলা আইনজীবীকে লক্ষ্য করে নোংরা ছোড়ার অভিযোগ নিঃসন্দেহে গুরুতর। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে তদন্তের ফলাফল এবং পুলিশের আইনানুগ পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে থাকাই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
ঘটনাটি নিছক ব্যক্তিগত বিবাদের জেরে, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হতে পারে।
আরামবাগ মহকুমা আদালত চত্বরে এবং সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আইনজীবী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলেই ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।






