সিঙ্গুরে ২২ বুথে প্রায় ৭০টি ত্রিপল বিতরণ, আবাস যোজনা নিয়ে নতুন সমীক্ষার বার্তা
সিঙ্গুর: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগে সিঙ্গুর বিধানসভার নসিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ত্রিপল বিতরণ করা হল। বুধবার নসিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২টি বুথের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৭০টি ত্রিপল বিতরণ করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গুরের বিধায়ক চিকিৎসক ডাঃ অরূপ কুমার দাস। তাঁর উপস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে ত্রিপল তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নসিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিজনিত সমস্যায় বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেই সমস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতেই এই উদ্যোগ। ভান্ডারদহ, পুরুষোত্তমপুর মোড়, মোল্লাশিমলা, রসুলপুর, আইমা, ডাঁসি, দুর্গারামপুর, মালিকপাড়া, দিয়াড়া, নন্দীপাড়া, গোবিন্দপুর, রামচন্দ্রপুর, দেশাপাড়া, সাঁতরাপাড়া, বাগপাড়া, নসিবপুর ব্রাহ্মণপাড়া, মাঝপাড়া, কোলে পাড়া, রায়পাড়া, বনবিশাললক্ষী মায়ের মন্দির সংলগ্ন এলাকা, তালডাঙা-দিয়ারা-সহ বিভিন্ন বুথ ও এলাকায় ত্রিপল পৌঁছে দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তাদের দাবি, এই কর্মসূচিতে কোনও বড় ধরনের প্রচার, মাইকিং, ব্যানার বা ফেস্টুনের আয়োজন করা হয়নি। তাঁদের বক্তব্য, মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের মূল লক্ষ্য। হুগলি সাংগঠনিক জেলার কিষাণ মোর্চার সাধারণ সম্পাদক এবং নসিবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিধায়কের প্রতিনিধিত্বকারী দলের অন্যতম সদস্য বাপন কোলে বলেন, ‘‘আমরা প্রচারে নয়, কাজে বিশ্বাসী। মানুষের পাশে থাকা এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা দেওয়াই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।’’
তিনি আরও জানান, ত্রিপল বিতরণের ক্ষেত্রে উপযুক্ত নথি হিসেবে উপভোক্তাদের নাম, আধার নম্বর এবং ফোন নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে। যাঁরা শারীরিক বা অন্য কোনও কারণে নির্দিষ্ট দিনে এসে ত্রিপল নিতে পারেননি, তাঁদের জন্য পরবর্তী পর্যায়ে তালিকা অনুযায়ী ত্রিপল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আসে—আবাস যোজনা নিয়ে চলা নতুন সমীক্ষা। বাপন কোলের দাবি, বর্তমানে বিভিন্ন গ্রাম ও এলাকায় আবাস যোজনার সমীক্ষার কাজ চলছে। যাঁদের কাঁচা বাড়ি রয়েছে, পাশাপাশি যাঁদের ইটের দেওয়াল থাকলেও টালির ছাদ, টিনের ছাউনি বা অসম্পূর্ণ বাড়ি রয়েছে, তাঁদেরও সমীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে।
তাঁর বক্তব্য, নতুন সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। অতীতে আবাস যোজনা নিয়ে যে সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলিও প্রশাসনের সামনে তুলে ধরে প্রকৃত উপযুক্ত মানুষ যাতে সরকারি সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যে কাজ করার কথা জানান তিনি।
এদিনের ত্রিপল বিতরণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে বাপন কোলে আরও বলেন, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এবং সিঙ্গুরের বিধায়ক চিকিৎসক অরূপ কুমার দাসের নেতৃত্বে আগামী দিনেও মানুষের পাশে থেকে পরিষেবা দেওয়ার কাজ অব্যাহত থাকবে।
তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি এদিনের কর্মসূচির অন্যতম তাৎপর্য ছিল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির হাতে সরাসরি ত্রিপল পৌঁছে দেওয়া। ২২টি বুথজুড়ে প্রায় ৭০০টি ত্রিপল বিতরণের এই উদ্যোগে স্থানীয় স্তরে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে বলেই উদ্যোক্তাদের দাবি।
সুশান্ত সিংহরায়, ১৩৬ নম্বর বুথের সভাপতি বলেন, “আমরা দেখনদারিতে বিশ্বাস করি না। ব্যানার, পোস্টার বা হোর্ডিংয়ে অর্থ ব্যয় করার পরিবর্তে সেই অর্থে আরও বেশি সংখ্যক মানুষের হাতে ত্রিপল তুলে দেওয়াকেই আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি। অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যেত, কয়েকজনকে ত্রাণসামগ্রী দিয়ে ছবি তুলে প্রচার করা হতো। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য প্রচার নয়, প্রকৃত অর্থে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বর্ষাকালে যাতে বৃষ্টির জল ঘরে ঢুকে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে না ফেলতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই প্রচারের খরচ কমিয়ে আরও বেশি ত্রিপল বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
এখন দেখার, ত্রিপল বিতরণের পাশাপাশি আবাস যোজনার নতুন সমীক্ষায় প্রকৃত উপভোক্তাদের কতটা দ্রুত সরকারি পরিষেবার আওতায় আনা যায় এবং অতীতের অনিয়মের অভিযোগগুলির ক্ষেত্রে প্রশাসhনিকভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।











