১৫ বছর পর ফিরছে খুশিগঞ্জের শতবর্ষের দশমী মেলা
দীর্ঘ বিরতির অবসান, পুরনো ঐতিহ্যকে ঘিরে নতুন করে উৎসবের প্রস্তুতি; উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরা
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি:
দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান। ফের পুরনো ঐতিহ্যে ফিরতে চলেছে খুশিগঞ্জের প্রায় একশো বছরের পুরনো দশমী মেলা। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার পর নতুন করে এই মেলা আয়োজনের উদ্যোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় তৈরি হয়েছে উৎসবের আবহ। পুরনো প্রজন্মের স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই মেলা ফের শুরু হওয়ার খবরে খুশিগঞ্জের বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খুশিগঞ্জের এই দশমী মেলার ইতিহাস প্রায় এক শতাব্দী পুরনো। দশমীকে কেন্দ্র করে বহু বছর ধরে এই মেলা ছিল এলাকার অন্যতম সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আকর্ষণ। মেলাকে ঘিরে শুধু কেনাবেচা বা বিনোদনই নয়, এলাকার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মিলনও ঘটত। শিশু থেকে প্রবীণ—সকলের কাছেই এই মেলা ছিল বছরের বিশেষ একটি উপলক্ষ।
কিন্তু দীর্ঘদিনের সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়ে ২০১১ সালের পর। স্থানীয়দের দাবি, ওই সময়ের পর থেকে খুশিগঞ্জের দশমী মেলা আর নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে মেলার মাঠ নীরব হয়ে পড়ে। যে জায়গায় একসময় দশমীর দিনগুলিতে মানুষের ভিড়, দোকানপাট, বিভিন্ন আয়োজন এবং উৎসবের পরিবেশ দেখা যেত, সেখানেই দীর্ঘ সময় ধরে আর সেই পুরনো চিত্র দেখা যায়নি।
প্রায় দেড় দশক পর এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে চলেছে। পুরনো মেলাকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। গতকাল মেলার সূচনা-সংক্রান্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকরাও। মেলা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
দীর্ঘদিন পর মেলা ফের চালু হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, এই মেলা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান নয়; এর সঙ্গে এলাকার দীর্ঘদিনের সামাজিক ঐতিহ্য এবং মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। বহু মানুষ ছোটবেলায় এই মেলায় আসার স্মৃতি বহন করছেন। সেই স্মৃতিই এবার নতুন প্রজন্মের সামনে ফিরে আসতে চলেছে।
মেলা পুনরায় শুরু হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বক্তব্যও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর পুরনো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং তারই অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই মেলাও ফের চালু হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্যে বর্তমান সরকারকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
তবে মেলা বন্ধ হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ এবং দীর্ঘদিন পর মেলা পুনরায় চালুর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পৃথকভাবে প্রয়োজন। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্যকে সেই প্রেক্ষিতেই দেখা হচ্ছে। মেলা বন্ধ থাকার সময়কাল ও পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আয়োজক এবং প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
এরই মধ্যে মেলা ঘিরে স্থানীয় মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। বহু বছর পর ফের মেলার মাঠে জমবে মানুষের ভিড়—এই প্রত্যাশায় রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। পুরনো দিনের মতো দোকানপাট, বিভিন্ন ধরনের আয়োজন এবং মানুষের সমাগমে মেলা ফের প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করছেন আয়োজকদের একাংশ।
বিশেষ করে প্রবীণ বাসিন্দাদের কাছে এই মেলা ফিরে আসার তাৎপর্য আরও বেশি। তাঁদের অনেকেরই স্মৃতিতে এখনও রয়েছে পুরনো দশমী মেলার ছবি। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে মেলায় যাওয়া, পরিচিতদের সঙ্গে দেখা হওয়া কিংবা মেলার বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করার সেই স্মৃতি দীর্ঘদিন পর ফের বাস্তব রূপ পেতে চলেছে।
অন্যদিকে, নতুন প্রজন্মের কাছেও এই মেলা একটি নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে যারা মেলার পুরনো রূপ দেখেনি, তাদের সামনে এবার সেই ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে মেলা ঘিরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আগ্রহও বাড়ছে।
প্রশাসনের আধিকারিকদের উপস্থিতিও এই আয়োজনের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। বড় আকারে মানুষের সমাগম হলে নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই দিক থেকে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি ও নজরদারি মেলা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
প্রায় একশো বছরের ঐতিহ্য, ২০১১ সালের পর দীর্ঘ বিরতি এবং প্রায় ১৫ বছর পর ফের আয়োজন—এই তিনটি পর্বকে ঘিরেই এবার খুশিগঞ্জের দশমী মেলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পুরনো ঐতিহ্যকে কতটা সফলভাবে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটিই এখন মূল বিষয়।
দীর্ঘ বিরতির পর ফের মেলার আলোয় আলোকিত হতে চলেছে খুশিগঞ্জ। পুরনো স্মৃতি, নতুন প্রজন্মের উৎসাহ এবং প্রশাসনিক নজরদারির মধ্য দিয়ে শুরু হতে চলেছে ঐতিহ্যবাহী দশমী মেলার নতুন অধ্যায়। বহু বছর পর ফের মেলার আসর বসার অপেক্ষায় এখন এলাকার মানুষ।

ডিজাইনার পোশাক থেকে শুরু করে রেডিমেড, কাস্টম টেইলরিং ও উন্নত মানের ফ্যাব্রিকস—সবকিছুর জন্য এক ঠিকানা বিশ্বজয়ন্তী।
আপনার পছন্দ ও মাপ অনুযায়ী পোশাকে দিন নিজের স্টাইলের ছোঁয়া। 🧵✂️
📍 ঠিকানা: স্বর্ণপ্রভা মল্লিক রোড, সিঙ্গুর, হুগলী – ৭১২৪০৯
📌 সিঙ্গুর ক্লাবের সংলগ্নে, মহামায়া স্কুলের বিপরীতে
📞 যোগাযোগ: 9674855556
বিশ্বজয়ন্তী — ডিজাইনার | রেডিমেড | কাস্টম টেইলরিং | ফ্যাব্রিকস














