তারকেশ্বরে বেআইনি নির্মাণ, কাটমানি ও তোলা আদায় রুখতে বিধায়কের কড়া বার্তা
নিজের ছবি বা দলের নাম ব্যবহার করে টাকা তুললে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান সন্তু পানের
সৌরভ আদক | ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পানের সমাজমাধ্যমের একটি পোস্ট ঘিরে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। নিজের ছবি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলার চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁকে আটক করে সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে খবর দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন বিধায়ক। একইসঙ্গে বেআইনি নির্মাণ, কাটমানি ও তোলা আদায়ের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
একসময় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সন্তু পান। সেই সময় টেলিভিশনের পর্দায় তাঁর রিপোর্টিং দেখেছেন অনেকেই। চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করা, কারও চাপের কাছে নত না হওয়া এবং নিজের বক্তব্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সেই সাংবাদিকসুলভ দাপটই যেন এবার দেখা যাচ্ছে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকাতেও—এমনটাই মনে করছেন তাঁর পরিচিতদের একাংশ।
তাঁর বর্তমান পোস্টের মূল বক্তব্য আরও সরাসরি। বিধায়কের ছবি দেখিয়ে কিংবা তাঁর নাম ব্যবহার করে কেউ যদি তোলা আদায় বা বেআইনি অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেন, তাহলে কোনওভাবেই তাঁকে প্রশ্রয় না দিয়ে প্রশাসনকে খবর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পোস্টের বার্তা কার্যত একটাই—রাজনৈতিক পরিচয় কোনও বেআইনি কাজের লাইসেন্স হতে পারে না।
বেআইনি নির্মাণ থেকে শুরু করে কাটমানি, তোলা আদায় কিংবা রাজনৈতিক নেতার নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের উপর চাপ সৃষ্টি—এই ধরনের অভিযোগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে একজন বিধায়কের নিজের নাম ও ছবি ব্যবহার করে বেআইনি কাজ বন্ধ করার প্রকাশ্য বার্তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
পোস্টে আরও যে বিষয়টি নজর কেড়েছে, তা হল সাধারণ মানুষকে সরাসরি সতর্ক করা। অর্থাৎ কেউ যদি বিধায়কের পরিচয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন, তাহলে বিষয়টি চুপ করে না রেখে প্রশাসনের নজরে আনার কথা বলা হয়েছে।
এখানেই তৈরি হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—রাজনীতি করার অর্থ তোলাবাজি নয়, জনপ্রতিনিধিত্বের অর্থ মানুষের আস্থা অর্জন করা।
তবে অভিযোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। কাউকে শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো এবং তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করাই হওয়া উচিত সঠিক পথ।
রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দল ও সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলা আদায় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। সেই পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে কোনও জনপ্রতিনিধি যদি নিজের নাম, ছবি এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বেআইনি অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে নিজেই সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেন, তাহলে সেই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবেই দেখা যায়।
কারণ দুর্নীতি বন্ধের প্রথম শর্তই হল—দলের নাম নয়, আইনের শাসন সবার আগে।
সন্তু পানের এই পোস্ট সেই বার্তাই সামনে এনেছে। নিজের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি বেআইনি কাজ করেন, তাহলে তাঁকেও রেয়াত করা হবে না—এমন অবস্থানই ফুটে উঠেছে পোস্টে।
তারকেশ্বরের রাজনৈতিক পরিসরে এই বার্তা কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। শুধু সমাজমাধ্যমে পোস্ট নয়, বাস্তবে অভিযোগ এলে দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই উদ্যোগ আরও শক্তিশালী বার্তা হয়ে উঠতে পারে।
একসময়ের সাংবাদিক থেকে বর্তমানের বিধায়ক—সন্তু পানের রাজনৈতিক যাত্রায় বদল এসেছে ঠিকই, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি কথা বলার সেই পুরনো স্বর এখনও যেন একই রয়েছে।
তাই প্রশ্নটা এখন একটাই—বিধায়কের এই সতর্কবার্তার পর তারকেশ্বরে বেআইনি নির্মাণ, কাটমানি এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে তোলা আদায়ের বিরুদ্ধে সত্যিই কি আরও কঠোর ব্যবস্থা দেখা যাবে?
উত্তর দেবে আগামী দিনের বাস্তব পদক্ষেপ।

8697937345








