কলকাতা হাইকোর্টে নতুন ভূমিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! কালো কোর্টে ফের রাস্তায় আন্দোলনের চেনা মমতা
সিঙ্গুর টিভি নিউজ ডেস্ক: রাজনীতির ময়দানে তিনি বহুবার নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করেছেন। কখনও আগুনঝরা বক্তা, কখনও আন্দোলনের নেত্রী, কখনও বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আর এবার একদম নতুন সাজে, নতুন ভূমিকায় সামনে এলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee।
সাদা শাড়ির উপর কালো কোর্ট, চোখেমুখে সেই চেনা লড়াইয়ের আগুন— বৃহস্পতিবার সকালেই কলকাতা হাইকোর্ট চত্বরে দেখা গেল এক অন্য মমতাকে।
ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, এবার তিনি আইনজীবীর ভূমিকায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান। সেই সময় দলের অন্যতম নেত্রী Chandrima Bhattacharya-ও জানিয়েছিলেন, মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই এবার আদালতের ভিতর থেকেও চলবে। আর সেই ঘোষণার বাস্তব রূপ যেন দেখা গেল আজ।
সকালের কলকাতা তখনও পুরোপুরি ব্যস্ত হয়ে ওঠেনি। কিন্তু হাইকোর্ট চত্বরে কৌতূহলী মানুষের ভিড়। কারণ, সেখানে পৌঁছে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— আইনজীবীর পোশাকে। নিজের দলের ঘরছাড়া কর্মী-সমর্থকদের পাশে দাঁড়াতে, তাদের হয়ে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিতে যেন আবার মাঠে নেমেছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনীতির মূল শক্তিই হলো আন্দোলন। তিনি শাসক হলেও তাঁর ভিতরে বরাবরই বিরোধী রাজনীতির চরিত্র প্রবল ছিল। ক্ষমতায় থেকেও বহুবার রাস্তায় নেমেছেন, প্রতিবাদ করেছেন, মিছিল করেছেন। আর এখন ক্ষমতা হারানোর পর যেন তিনি ফিরে যাচ্ছেন নিজের পুরনো ছন্দে— সেই সংগ্রামী মমতায়।
৭১ বছর বয়সেও তাঁর শরীরী ভাষায় ক্লান্তির ছাপ নেই। বরং কালো কোর্টে তাঁকে দেখে অনেকেরই মনে পড়ে গেল সেই অতীতের আন্দোলনের দিনগুলি।
যে মমতা একদিন Singur movement-এর মাটিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
যে মমতা Nandigram movement-এর আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছিলেন।
যে মমতা রোদে-জলে-ঝড়ে দিনের পর দিন আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাস্তাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। জনতার মাঝখানেই তিনি নিজেকে সবচেয়ে স্বচ্ছন্দ মনে করেন। তাই আদালতের কালো কোর্ট পরলেও তাঁর রাজনৈতিক ভাষা কিন্তু এখনও আন্দোলনেরই ভাষা। আদালতের সিঁড়ি থেকে রাস্তাঘাট— সর্বত্রই যেন তিনি লড়াইয়ের ময়দান খুঁজে নেন।
আজকের এই উপস্থিতি শুধুমাত্র আইনি লড়াইয়ের সূচনা নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তাও স্পষ্ট। তিনি বোঝাতে চাইছেন— বিরোধী রাজনীতিতে ফিরে এসেও তিনি থামবেন না। বরং নতুন কৌশলে, নতুন মঞ্চে আবারও লড়াই চালিয়ে যাবেন।
বাংলার রাজনীতিতে এখন নতুন সমীকরণ। একসময়ের শাসক আজ বিরোধীর ভূমিকায়। আবার যারা বিরোধী ছিলেন, তারা এখন ক্ষমতার কেন্দ্রে। এই পালাবদলের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন অবতার রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত রাজনীতির আসল সত্য একটাই— জনমানসে এবং সংবাদ শিরোনামে টিকে থাকার লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই সিদ্ধহস্ত। কালো কোর্টে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন সেই চিরচেনা রাজনৈতিক নাটকীয়তারই আরেক নতুন অধ্যায় বলেই মনে করছেন অনেকে।
নতুন এই পথচলার জন্য শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।
