লিলুয়ার জুয়েলার্সে সোনার গয়না চুরির অভিযোগ, কামারকুন্ডু জিআরপির তৎপরতায় চলন্ত ট্রেন থেকে আটক মহিলা

Published on: November 5, 2026

লিলুয়ার নামী জুয়েলার্সে চুরির অভিযোগ! বর্ধমানগামী চলন্ত ট্রেন থেকে মহিলাকে আটক কামারকুন্ডু জিআরপি, উদ্ধার সমস্ত সোনার গয়না

চুরির ভিডিও ও অভিযুক্তের ছবি পাঠিয়ে সতর্ক করেছিল লিলুয়া থানা। খবর পেয়েই তৎপর কামারকুন্ডু জিআরপি। সাত সদস্যের বিশেষ দলের তল্লাশিতে মশাগ্রাম অতিক্রম করার সময় চলন্ত ট্রেনের দরজার সামনে থেকে শনাক্ত ও আটক করা হয় অভিযুক্ত মহিলাকে। উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া সমস্ত সোনার গয়না।

নিজস্ব সংবাদদাতা | হুগলি

রেল পুলিশের তৎপরতা ও দ্রুত পদক্ষেপে চুরির অভিযোগে এক মহিলাকে চলন্ত ট্রেন থেকে আটক করার ঘটনা সামনে এল। লিলুয়ার একটি নামী জুয়েলার্সের দোকান থেকে বেশ কিছু সোনার গয়না চুরির অভিযোগ ওঠে ওই মহিলার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, দোকান থেকে গয়না চুরির পর লিলুয়া স্টেশন থেকে ট্রেনে চেপে বর্ধমানের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত রেল পুলিশের তৎপরতায় তাঁর সেই চেষ্টা সফল হয়নি। কামারকুন্ডু জিআরপির বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া সমস্ত সোনার গয়না।

পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটে নাগাদ লিলুয়া থানার পক্ষ থেকে কামারকুন্ডু জিআরপিএসের ওসিকে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। জানানো হয়, লিলুয়ার একটি নামী জুয়েলার্সের দোকান থেকে এক মহিলা বেশ কিছু সোনার গয়না চুরি করে লিলুয়া স্টেশন থেকে বর্ধমানগামী ট্রেনে উঠেছেন। ওই মহিলার পরিচয় শনাক্ত করার সুবিধার্থে তাঁর ছবি এবং চুরির সময়কার ভিডিও ফুটেজও কামারকুন্ডু জিআরপিএসের কাছে পাঠানো হয়।

খবর পাওয়ার পর এক মুহূর্তও দেরি করেনি কামারকুন্ডু জিআরপি। দ্রুত সাতজন পুলিশকর্মীর একটি বিশেষ দল গঠন করে সংশ্লিষ্ট ট্রেনে তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়। প্রথমে ট্রেনের মহিলা কামরায় তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু সেখানে অভিযুক্ত মহিলার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এরপর তল্লাশি অভিযান চালানো হয় সাধারণ কামরায়। একের পর এক যাত্রী ও কামরায় নজরদারি চালাতে চালাতে এগোতে থাকে রেল পুলিশের দল। অবশেষে ট্রেনটি যখন মশাগ্রাম স্টেশন অতিক্রম করে, সেই সময় চলন্ত ট্রেনের দরজার সামনে বসে থাকা অবস্থায় ওই মহিলাকে শনাক্ত করেন পুলিশকর্মীরা। হাতে থাকা ছবি ও ভিডিওর সঙ্গে মিলিয়ে তাঁকে চিহ্নিত করার পর আটক করা হয়।

পরবর্তীতে ওই মহিলাকে কামারকুন্ডু জিআরপিএসে নিয়ে এসে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যাগ এবং তাঁকে তল্লাশি করা হয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, তল্লাশিতে উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া সমস্ত সোনার গয়না।

এরপর অভিযুক্ত মহিলা এবং উদ্ধার হওয়া সমস্ত সোনার গয়না লিলুয়া থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। গোটা ঘটনার পরবর্তী তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়া লিলুয়া থানার অধীনে রয়েছে।

অভিযুক্তের পরিচয়

পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক মহিলার নাম মানসী মাইতি (২৭)। পিতা নবকুমার জানা এবং স্বামী শহিদুল মল্লিক। ঠিকানা পদুয়া, সালুন, বর্ধমান।

### পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার চুরি যাওয়া সম্পত্তি

এই ঘটনায় আন্তঃথানা পুলিশের দ্রুত সমন্বয় এবং রেল পুলিশের তৎপরতা বিশেষভাবে সামনে এসেছে। সময়মতো ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পাঠানো এবং সেই সূত্র ধরে ট্রেনের মধ্যে তল্লাশি চালানোর ফলেই অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা বিচারাধীন। তদন্তের পরেই ঘটনার সমস্ত দিক আরও স্পষ্ট হবে।

সিঙ্গুর TV নিউজ | হুগলি | নিজস্ব সংবাদদাতা

সংবাদটি প্রাপ্ত পুলিশি তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত। অভিযুক্ত প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আইনত নির্দোষ বলে গণ্য।

 

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

পড়তে ভুলবেন না