মাত্র ৪ সেন্টিমিটারের ঝিনুকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও তাঁর বাবা-মায়ের প্রতিকৃতি, শিল্পী মলয় ঘোষের অনন্য সৃষ্টি
ক্ষুদ্র ক্যানভাসে তিন প্রতিকৃতি, ‘Best Painting Artist’ সম্মানে শিল্পযাত্রায় আরও এক নতুন পালক
নিজস্ব সংবাদদাতা, তারকেশ্বর :
ক্যানভাসের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন নেই বড় কোনও জায়গারও। মাত্র ৪ সেন্টিমিটার লম্বা এবং প্রায় ১.৪ সেন্টিমিটার চওড়া একটি ঝিনুক—আর সেই অতি ক্ষুদ্র পরিসরেই ফুটে উঠেছে তিনটি মুখ। তুলির সূক্ষ্ম আঁচড়ে সেই ঝিনুকের গায়ে প্রতিকৃতি এঁকেছেন তারকেশ্বরের শিল্পী মলয় ঘোষ। তাঁর এই অভিনব শিল্পকর্মে তুলে ধরা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর বাবা-মায়ের প্রতিকৃতি। ক্ষুদ্রতম পরিসরে এমন শিল্পসৃষ্টি ফের একবার নজর কেড়েছে শিল্পী মহলে।
একটি ঝিনুককে ক্যানভাস হিসেবে ব্যবহার করে তার গায়ে তিনটি আলাদা মুখের প্রতিকৃতি তৈরি করা নিঃসন্দেহে সহজ কাজ নয়। মাত্র ৪ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১.৪ সেন্টিমিটার প্রস্থের মতো অতি সামান্য জায়গায় চোখ, নাক, ঠোঁট, মুখের গঠন এবং অভিব্যক্তির মতো সূক্ষ্ম বিষয়গুলিকে ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন অসাধারণ ধৈর্য, মনোযোগ এবং হাতের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ। সাধারণ মানুষের চোখে যা শুধুমাত্র একটি ছোট ঝিনুক, শিল্পীর কল্পনায় সেটিই হয়ে উঠেছে একটি ক্ষুদ্র ক্যানভাস।
মলয় ঘোষের এই শিল্পকর্মের বিশেষত্ব এখানেই। বড় ক্যানভাসে ছবি আঁকার পরিবর্তে তিনি বেছে নিয়েছেন এমন একটি মাধ্যম, যেখানে সামান্য ভুলও পুরো কাজের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে তিনটি পরিচিত মুখকে একই পৃষ্ঠে ফুটিয়ে তোলার প্রয়াস শিল্পীর সূক্ষ্ম শিল্পচর্চার একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ।
আর এই অভিনব শিল্পকর্মের স্বীকৃতিও এসেছে। ২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মলয় ঘোষকে প্রদান করা হয়েছে ‘Certificate of Excellence’। শংসাপত্রে তাঁকে ‘Best Painting Artist’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়েছে। সেখানে শিল্পীর সৃজনশীলতা, শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি, কল্পনাশক্তি, প্রতিভা এবং শিল্পের প্রতি তাঁর নিষ্ঠার প্রশংসা করা হয়েছে। The Fair Vision Foundation-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এই শংসাপত্র তাঁর শিল্পীজীবনে নতুন সংযোজন হিসেবে সামনে এসেছে।
তবে মলয় ঘোষের শিল্পযাত্রা শুধুমাত্র এই একটি সম্মান বা একটি শিল্পকর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও তাঁর বিভিন্ন শিল্পকর্ম Guinness World Records, India Book of Records-সহ একাধিক রেকর্ড ও স্বীকৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে একের পর এক অভিনব কাজ এবং তার স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে নিজের শিল্পীসত্তাকে আরও প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
মলয় ঘোষের জীবনকাহিনিও তাঁর শিল্পের মতোই অন্যরকম। অত্যন্ত সাধারণ এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে উঠে এসেছেন তিনি। শিল্পচর্চার পথে হয়তো তাঁর সামনে সবসময় পর্যাপ্ত সুযোগ বা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ছিল না। কিন্তু প্রতিকূলতা তাঁর প্রতিভাকে আটকে রাখতে পারেনি। বরং সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই নিজের সৃষ্টিশীলতাকে শক্তিতে পরিণত করেছেন তিনি।
শিল্পীর পরিচিত মহলের বক্তব্য, মলয়ের সবচেয়ে বড় সম্পদ তাঁর প্রতিভা এবং নতুন কিছু করার আগ্রহ। প্রচলিত পথে হাঁটার পরিবর্তে তিনি বারবার চেষ্টা করেছেন অপ্রচলিত মাধ্যমকে শিল্পের অংশ করে তুলতে। ছোট জায়গায় ছবি আঁকা থেকে শুরু করে ভিন্ন উপকরণ ব্যবহার—বিভিন্ন ধরনের শিল্পভাবনা নিয়ে কাজ করে চলেছেন তিনি। তাঁর এই প্রয়াসই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে।
একজন শিল্পীর কাছে স্বীকৃতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ হল নিজের শিল্পের মাধ্যমে নতুন কিছু সৃষ্টি করার সাহস। মলয় ঘোষের ক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে আসে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, সুযোগের অভাব কিংবা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি তাঁর প্রতিভাকে থামতে দেননি। বরং নিজের শিল্পকর্মের মাধ্যমেই বারবার প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন—প্রতিভার বিকাশের জন্য বড় পরিসর নয়, প্রয়োজন বড় স্বপ্ন এবং নিরলস সাধনা।
মাত্র কয়েক সেন্টিমিটারের একটি ঝিনুকে তিনটি প্রতিকৃতি আঁকার কাজটি সেই দর্শনেরই প্রতিফলন। একটি ক্ষুদ্র প্রাকৃতিক বস্তু কীভাবে শিল্পীর হাতে একটি স্মরণীয় শিল্পকর্মে পরিণত হতে পারে, তা এই সৃষ্টিতে দেখা যাচ্ছে।

মলয় ঘোষের শিল্পযাত্রায় তাই ‘Best Painting Artist’ সম্মান শুধুমাত্র একটি সার্টিফিকেট নয়; এটি তাঁর দীর্ঘ পথচলার আরও একটি স্বীকৃতি। Guinness World Records, India Book of Records এবং অন্যান্য স্বীকৃতির পর এবার ‘Best Painting Artist’ সম্মান তাঁর শিল্পীজীবনে আরও একটি নতুন পালক যুক্ত করল।
তারকেশ্বরের মতো একটি জায়গা থেকে উঠে এসে নিজের প্রতিভাকে সামনে রেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বীকৃতির দিকে এগিয়ে চলার এই যাত্রা নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার। বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের একজন শিল্পীর জন্য এই পথ আরও কঠিন। কিন্তু মলয় ঘোষের ক্ষেত্রে সেই প্রতিকূলতাই যেন তাঁর সৃষ্টিশীলতার জেদকে আরও শক্ত করেছে।
আজ তাঁর হাতে মাত্র চার সেন্টিমিটারের একটি ঝিনুক। তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর বাবা-মায়ের তিনটি প্রতিকৃতি। আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও সেই শিল্পকর্মের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সময়ের অনুশীলন, ধৈর্য, কল্পনা এবং শিল্পের প্রতি ভালোবাসা।
ক্যানভাস যত ছোটই হোক, শিল্পীর স্বপ্ন যদি বড় হয়, তাহলে সেই ছোট্ট পরিসরও হয়ে উঠতে পারে ইতিহাস তৈরির জায়গা। তারকেশ্বরের শিল্পী মলয় ঘোষের শিল্পযাত্রা যেন সেই কথাই আরও একবার মনে করিয়ে দিল।

ডিজাইনার পোশাক থেকে শুরু করে রেডিমেড, কাস্টম টেইলরিং ও উন্নত মানের ফ্যাব্রিকস—সবকিছুর জন্য এক ঠিকানা বিশ্বজয়ন্তী।
আপনার পছন্দ ও মাপ অনুযায়ী পোশাকে দিন নিজের স্টাইলের ছোঁয়া। 🧵✂️
📍 ঠিকানা: স্বর্ণপ্রভা মল্লিক রোড, সিঙ্গুর, হুগলী – ৭১২৪০৯
📌 সিঙ্গুর ক্লাবের সংলগ্নে, মহামায়া স্কুলের বিপরীতে
📞 যোগাযোগ: 9674855556
বিশ্বজয়ন্তী — ডিজাইনার | রেডিমেড | কাস্টম টেইলরিং | ফ্যাব্রিকস












