বাবাকে খুনের দায়ে সন্তান ও পুত্রবধূর যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিলো কোর্ট

Published on: August 21, 2026
---Advertisement---

 বাবাকে খুনের দায়ে ছেলে ও পুত্রবধূর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

তারকেশ্বরে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মামলায় চন্দননগর আদালতের রায়, দুই অভিযুক্তকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানাও

নিজস্ব সংবাদদাতা, তারকেশ্বর, হুগলি | ২০ আগস্ট:
বাবাকে খুনের অভিযোগে ছেলে ও পুত্রবধূকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্ত অমিত কোলে ও তাঁর স্ত্রী পূজা কোলে-কে দোষী সাব্যস্ত করে চন্দননগরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, উভয় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা দিতে হবে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২৩ সালের ৬ জুলাই গভীর রাতে। অভিযোগ, তারকেশ্বর থানার গৌরীবাটি গ্রামের বাসিন্দা আদিত্য কোলের উপর তাঁর নিজের ছেলে অমিত কোলে হামলা চালান। পরদিন, ৭ জুলাই তার স্ত্রী সাবিত্রী কোলে তারকেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগপত্রে সাবিত্রী কোলে দাবি করেন, ৬ জুলাই রাত প্রায় ১টা নাগাদ তিনি তাঁর স্বামীর চিৎকার শুনতে পান। ঘর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও তিনি দেখতে পান, দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে দরজা খুলে স্বামীর ঘরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তাঁর ছেলে অমিত কোলে তাঁর বাবার বুকের উপর বসে গলা টিপে ধরেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, স্বামীকে বাঁচাতে সাবিত্রী কোলে এগিয়ে গেলে তাঁকে বাধা দেন তাঁর পুত্রবধূ পূজা কোলে। অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং স্বামীকে উদ্ধারের চেষ্টা ব্যাহত করা হয়। পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আত্মীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। সেখানে আদিত্য কোলেকে মুখে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

ঘটনার পরই তদন্তে নামে তারকেশ্বর থানার পুলিশ। তৎকালীন তদন্তকারী অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর নীলমাধব পাল মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। পুলিশ অভিযুক্ত অমিত কোলে ও পূজা কোলেকে গ্রেফতার করে। তদন্তের সময় ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয় এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে এই মামলায় রায় ঘোষণা করল আদালত। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অমিত কোলে ও পূজা কোলে-কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। আদালত উভয় অভিযুক্তকেই যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সাধারণ কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত নির্দেশ দিয়েছে।

এই রায় ঘোষণার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে ২০২৩ সালের সেই রাতের ঘটনা। নিজের পরিবারের সদস্যের মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হওয়া মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপর্বের শেষে আদালতের এই রায়ই এখন মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে দাঁড়াল।

আইন-আদালতের এই রায়ে স্পষ্ট—অভিযোগের তদন্ত থেকে শুরু করে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন, প্রতিটি ধাপই বিচারপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আর সেই বিচারপ্রক্রিয়ার শেষেই দোষী সাব্যস্ত হলেন বাবা হত্যার মামলায় অভিযুক্ত ছেলে ও পুত্রবধূ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now