কাঠকলের সারি ডোমকল-রানিনগরে, বৈধতার নথি নিয়ে প্রশ্ন
প্রশাসনের কাছে অভিযোগ, নজরদারি নিয়ে সরব বৈধ ব্যবসায়ীর
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদের ডোমকল ও রানিনগর এলাকায় একাধিক কাঠ চেরাই কলকে ঘিরে উঠেছে বৈধতা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদনের প্রশ্ন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এলাকার বিভিন্ন কাঠকল থেকে চেরাই করা কাঠ মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন বাজারের পাশাপাশি রাজ্যের অন্য প্রান্ত এবং দেশের বিভিন্ন জায়গাতেও সরবরাহ করা হয়। তবে এরই মধ্যে কয়েকটি কাঠকলের প্রয়োজনীয় সরকারি নথি, অনুমোদন এবং ছাড়পত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার কয়েক জন কাঠকল ব্যবসায়ী।
অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁরা নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে গিয়ে একাধিক সরকারি বিধি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন। প্রয়োজনীয় নথিপত্র, লাইসেন্স বা অনুমোদন সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়মিত বজায় রাখতে হয় বলেও তাঁদের দাবি। কিন্তু একই এলাকায় এমন কিছু কাঠকল রয়েছে, যেগুলির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন বা নথিপত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে তাঁদের কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে। ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, কোনও একটি শিল্প বা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা যদি বাধ্যতামূলক হয়, তা হলে একই ধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রে সেই নিয়ম সকলের জন্য সমান ভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, তা প্রশাসনেরই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, বিষয়টি নিয়ে বন দফতর এবং পুলিশ-প্রশাসনের কাছে তাঁরা অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, অভিযোগ জানানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস বা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও তাঁদের কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই। দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ তাঁদের নজরে আসেনি বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
তবে এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও নির্দিষ্ট কাঠকলকে সরাসরি ‘বেআইনি’ বলে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়। কারণ কোনও কাঠ চেরাই কল বৈধ ভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি নথি, লাইসেন্স, জমির ব্যবহার, ব্যবসার প্রকৃতি, কাঠের উৎস এবং প্রযোজ্য বিধি ও অনুমোদনের বিষয়গুলি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের অনুমতি প্রয়োজন, সেটিও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিধি এবং ব্যবসার প্রকৃতির উপর নির্ভর করতে পারে।
ফলে ডোমকল ও রানিনগর এলাকার কাঠকলগুলির ক্ষেত্রে মূল প্রশ্নটি এখন দাঁড়িয়েছে প্রশাসনিক যাচাইকে ঘিরে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় কি না, কাঠের উৎস ও পরিবহণ সংক্রান্ত বিধি যথাযথ ভাবে মানা হচ্ছে কি না, পরিবেশগত বা অন্যান্য প্রযোজ্য অনুমোদনের প্রয়োজন থাকলে তা নেওয়া হয়েছে কি না—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বিশেষ করে বৈধ ব্যবসায়ীদের একাংশের প্রশ্ন, তাঁরা যদি নিয়ম মেনে ব্যবসা চালানোর জন্য বিভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান, তা হলে একই এলাকায় পরিচালিত অন্য প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও একই ধরনের যাচাই হচ্ছে কি না, তা প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন। তাঁদের মতে, নিয়ম মেনে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে অনুমোদনহীন বা নিয়মবহির্ভূত কোনও কার্যকলাপ থাকলে তার ফলে বৈধ ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।
অন্য দিকে, কাঠ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় কয়েক জনের বক্তব্য, কাঠ চেরাই শিল্পের সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। ফলে কোনও অভিযোগের ভিত্তিতে সরাসরি কোনও ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে প্রথমে নথিপত্র যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক তদন্ত করা উচিত। কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, কাঠকলগুলির বৈধতা নিয়ে যদি কোনও প্রশ্ন থেকে থাকে, তা হলে সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে নথিপত্র পরীক্ষা করুন। এতে এক দিকে প্রকৃত বৈধ ব্যবসায়ীরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ পাবেন, অন্য দিকে কোনও অনিয়ম থাকলে সেটিও প্রশাসনের নজরে আসবে।
এখন নজর রয়েছে বন দফতর এবং স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনের দিকে। অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও তদন্ত হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট কাঠকলগুলির নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে কি না, এবং কোনও অনিয়ম পাওয়া গেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে প্রশাসনের বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বন দফতর, পুলিশ-প্রশাসন কিংবা কাঠকল মালিকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট বক্তব্য ও সরকারি নথি পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।
স্থানীয় বৈধ ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁদের উদ্দেশ্য কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে হেয় করা নয়। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা যে নিয়ম মেনে ব্যবসা করছেন, সেই একই নিয়ম সকলের ক্ষেত্রেই সমান ভাবে কার্যকর হোক। কাঠ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের স্বার্থ রক্ষা, সরকারি বিধি মেনে চলা এবং প্রকৃত বৈধ-অবৈধ অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষ নজরদারি প্রয়োজন বলেই তাঁদের দাবি।

ডিজাইনার পোশাক থেকে শুরু করে রেডিমেড, কাস্টম টেইলরিং ও উন্নত মানের ফ্যাব্রিকস—সবকিছুর জন্য এক ঠিকানা বিশ্বজয়ন্তী।
আপনার পছন্দ ও মাপ অনুযায়ী পোশাকে দিন নিজের স্টাইলের ছোঁয়া। 🧵✂️
📍 ঠিকানা: স্বর্ণপ্রভা মল্লিক রোড, সিঙ্গুর, হুগলী – ৭১২৪০৯
📌 সিঙ্গুর ক্লাবের সংলগ্নে, মহামায়া স্কুলের বিপরীতে
📞 যোগাযোগ: 9674855556
বিশ্বজয়ন্তী — ডিজাইনার | রেডিমেড | কাস্টম টেইলরিং | ফ্যাব্রিকস

8697937345













