দলের মধ্যে কোনও ফাটল নেই, দিল্লি সফর ঘিরে জল্পনা উড়িয়ে দাবি রচনা ব্যানার্জীর
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অনুপস্থিতি পারিবারিক কারণে, জানালেন হুগলির সাংসদ; দিল্লিতে সাংসদদের বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চর্চা
হুগলি: দিল্লিতে দলের সাংসদদের একাংশের উপস্থিতি, বিরোধীদের নির্বাচন কমিশন-বিরোধী আন্দোলন এবং দলের অভ্যন্তরে কথিত মতপার্থক্য—এই তিনটি বিষয়কে ঘিরে যখন রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে, তখন দলের মধ্যে কোনও বিভাজন বা ফাটল নেই বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন হুগলির সাংসদ তথা অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জী। তাঁর দাবি, তাঁরা আগেও একসঙ্গে ছিলেন, এখনও একসঙ্গে রয়েছেন এবং আগামী দিনেও একসঙ্গেই কাজ করবেন। দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে যে ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সামনে আসছে, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনও মিল নেই বলেই দাবি তাঁর।
দিল্লিতে দলের কয়েকজন সাংসদের একত্রিত হওয়া এবং অন্য কয়েকজনের অনুপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দলের সাংসদদের মধ্যে কোনও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে কি না, কেউ কেউ আলাদা অবস্থান নিচ্ছেন কি না—তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে রচনা ব্যানার্জী জানান, দিল্লি যাওয়ার বিষয়টি তাঁর কোনও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দলের সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে একজন বা দু’জন সাংসদের উপস্থিতি কিংবা অনুপস্থিতির ভিত্তিতে দলের মধ্যে বিভাজনের ব্যাখ্যা দেওয়া ঠিক হবে না।
দলের সাংসদদের বিভিন্ন গ্রুপ বা নামের পরিবর্তন নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। সেই প্রসঙ্গে রচনার বক্তব্য, সাংগঠনিক বা যোগাযোগের সুবিধার জন্য কখনও কখনও গ্রুপের নাম পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু নামের পরিবর্তনকে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সঙ্গে যুক্ত করার কোনও কারণ নেই। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল—দলের সাংসদরা এখনও একসঙ্গে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গে কাজ করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অনুপস্থিতি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা
দিল্লি সফরে দলের চিফ হুইপ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁর অনুপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হলেও রচনা ব্যানার্জী সেই জল্পনায় জল ঢালেন। তিনি জানান, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কিছু পারিবারিক সমস্যা রয়েছে। সেই কারণেই এবার তিনি দিল্লিতে আসতে পারছেন না।
তবে এর সঙ্গে দলের কোনও রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা দূরত্বের সম্পর্ক নেই বলেই স্পষ্ট করেন রচনা। তাঁর বক্তব্য, কাকলি ঘোষ দস্তিদার সবসময়ই দলের সঙ্গে রয়েছেন। চিফ হুইপ হিসেবে দলের সাংসদদের সঙ্গে সমন্বয় এবং সংসদীয় কার্যকলাপে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই একটি নির্দিষ্ট সফরে তাঁর উপস্থিতি না থাকাকে দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।
পুজোর আগে একসঙ্গে বসে আলোচনা
দিল্লিতে দলের সাংসদদের একত্রিত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রচনা ব্যানার্জী বলেন, সাধারণত সংসদ ভবনেই তাঁদের একসঙ্গে দেখা হয়। কখনও দিল্লিতে অন্য কর্মসূচিতেও তাঁদের সাক্ষাৎ হয়। কিন্তু সামনে পুজোর মরসুম। এই সময় প্রত্যেকেই নিজেদের এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। ফলে তার আগেই একসঙ্গে বসে কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দিল্লি সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হল নিজেদের মধ্যে দেখা করা, পারস্পরিক মতবিনিময় করা এবং কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা। এটিকে কোনও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা দলের মধ্যে নতুন কোনও গোষ্ঠী তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখার কারণ নেই বলেই দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশন-বিরোধী আন্দোলন নিয়েও মন্তব্য
অন্যদিকে, দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের ধারাবাহিক আন্দোলন নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন রচনা ব্যানার্জী। তাঁর বক্তব্য, দিল্লি দেশের রাজধানী। ফলে সেখানে কোনও রাজনৈতিক দল আন্দোলন বা প্রতিবাদ কর্মসূচি করলে তা স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমের নজরে আসে। বিরোধীরা সেই কারণেই দিল্লিকে আন্দোলনের অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তাঁর মত।
রচনার বক্তব্য, বিরোধীরা নিজেদের রাজনৈতিক বক্তব্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে। দিল্লিতে অবস্থান-বিক্ষোভ, স্লোগান বা প্রতিবাদ কর্মসূচি হলে তার প্রচারও তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। তবে বিরোধীরা কোথায় আন্দোলন করবে বা কী ধরনের কর্মসূচি নেবে, তা সম্পূর্ণ তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলেও জানান তিনি।
‘দিল্লি যাওয়ায় কোনও বাধা নেই’
বিরোধী দলের নেতা-সাংসদদের দিল্লি সফর নিয়েও রচনা ব্যানার্জী বলেন, দিল্লিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক দলের কারও উপর নিষেধাজ্ঞা নেই। যে কোনও নেতা বা কর্মী নিজের রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুযায়ী দিল্লি যেতে পারেন। তাঁদের দিল্লি সফরের সঙ্গে বিরোধীদের আন্দোলনকে এক করে দেখারও কোনও কারণ নেই।
তাঁর বক্তব্য, তাঁরা মূলত নিজেদের মধ্যে দেখা করতে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেই দিল্লিতে একত্রিত হচ্ছেন। দলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি, সংসদীয় বিষয় এবং নিজেদের মধ্যে সমন্বয়—এই ধরনের বিষয় নিয়েই আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
জল্পনার মধ্যেই ঐক্যের বার্তা
রাজনৈতিক মহলে যখন দলের সাংসদদের ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে নানা জল্পনা চলছে, তখন রচনা ব্যানার্জীর বক্তব্যকে দলের ঐক্যের বার্তা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা আগেও একসঙ্গে ছিলাম, আমরা একসঙ্গে আছি এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকব।’’
ফলে দিল্লি সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভাজনের জল্পনা কতটা বাস্তব, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। যদিও রাজনৈতিক মহলে এই সফর এবং সাংসদদের বৈঠককে ঘিরে নজর থাকছেই। আগামী দিনে দলের সাংসদদের মধ্যে সমন্বয়, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং দিল্লিতে তাঁদের অবস্থান—এই তিনটি বিষয়েই নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

ডিজাইনার পোশাক থেকে শুরু করে রেডিমেড, কাস্টম টেইলরিং ও উন্নত মানের ফ্যাব্রিকস—সবকিছুর জন্য এক ঠিকানা বিশ্বজয়ন্তী।
আপনার পছন্দ ও মাপ অনুযায়ী পোশাকে দিন নিজের স্টাইলের ছোঁয়া। 🧵✂️
📍 ঠিকানা: স্বর্ণপ্রভা মল্লিক রোড, সিঙ্গুর, হুগলী – ৭১২৪০৯
📌 সিঙ্গুর ক্লাবের সংলগ্নে, মহামায়া স্কুলের বিপরীতে
📞 যোগাযোগ: 9674855556
বিশ্বজয়ন্তী — ডিজাইনার | রেডিমেড | কাস্টম টেইলরিং | ফ্যাব্রিকস
















