তারকেশ্বরে অসহায় দৃষ্টিহীন অপর্ণা ঘোড়ুই, দুই সন্তানকে নিয়ে কঠিন লড়াই, সরকারি সহায়তার আবেদন
তারকেশ্বর, হুগলি | নিজস্ব সংবাদদাতা:
জীবনের কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেছেন হুগলি জেলার তারকেশ্বর বিধানসভা এলাকার পূর্ব রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন কলাইকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা অপর্ণা ঘোড়ুই। স্বামী নিতাই ঘোড়ুইয়ের মৃত্যুর পর দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর। দৃষ্টিহীন অপর্ণার পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি ঘিরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সহৃদয় মানুষের কাছে জানানো হয়েছে একটি মানবিক আবেদন।
পরিবারের সদস্য হিসেবে রয়েছেন অপর্ণা ঘোড়ুইয়ের পুত্র অমিত ঘোড়ুই এবং কন্যা মেঘা ঘোড়ুই। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে সংসার চালানো এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার দায়িত্ব এখন অপর্ণার উপর। পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক বলে জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি পরিষেবা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সহায়তা পাওয়া পরিবারের কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
আধার কার্ড না থাকায় সরকারি পরিষেবা পেতে সমস্যা
অভিযোগ, আধার কার্ড না থাকার কারণে অপর্ণা ঘোড়ুইয়ের পরিবার বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা এবং সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পেতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। যে সমস্ত পরিষেবা অসহায় পরিবারগুলির জীবনযাত্রাকে কিছুটা সহজ করতে পারে, সেগুলি পাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সমস্যা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে আবেদনকারীদের বক্তব্য।
তবে আধার কার্ড না থাকার কারণে ঠিক কোন কোন সরকারি পরিষেবা আটকে রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি এবং বিকল্প পরিচয়পত্রের মাধ্যমে প্রযোজ্য পরিষেবা পাওয়ার কোনও সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা জরুরি।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপের আবেদন
এই পরিস্থিতিতে পূর্ব রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে। আধার কার্ড সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান, প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরিতে সহযোগিতা এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হচ্ছে।
বিশেষ করে একজন দৃষ্টিহীন মহিলা এবং তাঁর দুই নাবালক সন্তানের পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান ও প্রয়োজনীয় সরকারি প্রকল্পের বিষয়ে তাঁদের অবহিত করা হলে পরিবারটি উপকৃত হতে পারে। সরকারি পরিষেবা পাওয়ার জন্য কী কী নথি প্রয়োজন এবং কোথায় আবেদন করতে হবে, সে বিষয়ে সহায়তা করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক সহযোগিতারও প্রয়োজন
শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ নয়, এই পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে। আর্থিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিংবা সরকারি দপ্তরে আবেদন করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা—যে কোনও মানবিক উদ্যোগই পরিবারটির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
অপর্ণা ঘোড়ুই ও তাঁর দুই সন্তানের পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সমাজের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একজন দৃষ্টিহীন মায়ের পক্ষে দৈনন্দিন জীবনের নানা প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সহজ নয়। তাই তাঁদের সমস্যার কথা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রাপ্য সহায়তা পাওয়ার পথ সুগম করা জরুরি।
কী পদক্ষেপ করে প্রশাসন, এখন সেদিকেই নজর
কলাইকুন্ডু গ্রামের অপর্ণা ঘোড়ুই ও তাঁর দুই সন্তান যাতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্য পরিষেবা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পান, তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এই মানবিক আবেদনের মাধ্যমে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে। পরিবারের সমস্যাগুলি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হলে তাঁদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
আসুন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে অপর্ণা ঘোড়ুই ও তাঁর দুই সন্তানের জন্য নতুন আশার পথ তৈরি হোক।
সংবাদ: সিঙ্গুর টিভি নিউজের পাঠকদের জন্য মানবিক আবেদন।








