ইন্টার ক্লাব জিমন্যাস্টিক্স প্রতিযোগিতায় ভবিষ্যতের তারকা খুঁজছে বাণী সংঘ সিংহ – বললেন ন্যাশনাল জাজ প্রলয় প্রামাণিক
মোবাইল থেকে দূরে থেকে খেলাধুলায় মন দেওয়ার আহ্বান, শিশুদের ফিটনেস ও ভবিষ্যৎ গড়ার বার্তা
সিঙ্গুর টিভি নিউজ ওয়েবডেস্ক :
স্থানীয় ক্রীড়া চর্চাকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে ইন্টার ক্লাব জিমন্যাস্টিক্স প্রতিযোগিতার আয়োজন করল বাণী সংঘ সিংহ। এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে উৎসাহ ও উদ্দীপনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে ক্লাব প্রাঙ্গণে। ছোট ছোট প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। ভবিষ্যতের প্রতিভা খুঁজে বের করাই এই প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য বলে জানালেন ক্লাবের হেড কোচ এবং ন্যাশনাল জিমনাস্ট ও ন্যাশনাল জাজ প্রলয় প্রামাণিক।
প্রলয় প্রামাণিক বর্তমানে গোবিন্দপুর পূর্ণচন্দ্র বিদ্যায়তন স্কুলের শিক্ষক। কয়েক মাস আগে তিনি বাণী সংঘ সিংহ ক্লাবের জিমন্যাস্টিক্স বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি ক্লাবের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার চেষ্টা করছেন এবং এখান থেকে নতুন প্রতিভা তুলে আনার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছেন।
প্রলয় প্রামাণিক বলেন, “আমি ন্যাশনাল জিমনাস্ট, ন্যাশনাল জাজ এবং বেঙ্গল টিমের কোচ হিসেবে কাজ করছি। কয়েক মাস আগে এই ক্লাবের দায়িত্ব পেয়েছি। আমার চেষ্টা হচ্ছে এখান থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্স তৈরি করা এবং এমন কিছু জিমনাস্ট তৈরি করা যারা ভবিষ্যতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের নাম উজ্জ্বল করবে।”
তিনি আরও জানান, এই ক্লাবে ইতিমধ্যেই কয়েকজন ন্যাশনাল জিমনাস্ট এবং ন্যাশনাল হোল্ডার রয়েছেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের তৈরি করার চেষ্টা চলছে। ক্লাবের কোচিং ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করে বাচ্চাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
আজকের ইন্টার ক্লাব প্রতিযোগিতায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছে। বিভিন্ন বিভাগে তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় জিমনাস্টদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রলয় প্রামাণিকের কথায়, “এই ধরনের প্রতিযোগিতা শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। একই সঙ্গে তারা নিজেদের দক্ষতা যাচাই করার সুযোগ পায়। এখান থেকেই অনেক সময় বড় মাপের খেলোয়াড় উঠে আসে।”
বর্তমান প্রজন্মের জীবনযাত্রা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাঁর মতে, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা তৈরি করছে।
তিনি বলেন, “আমাদের সময় কিন্তু এত মোবাইল ফোন ছিল না। তাই আমরা মাঠে বেশি সময় কাটাতাম। হয়তো সেই কারণেই আমরা আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি। কিন্তু এখনকার বাচ্চারা মোবাইলে বেশি সময় কাটায়। আমি প্রত্যেক অভিভাবক এবং বাচ্চাদের বলব, মোবাইলটা একটু এড়িয়ে চলুন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা মাঠে এসে খেলাধুলা করুন। জিমন্যাস্টিক্স বা অন্য কোনও খেলাধুলার মধ্যে থাকলে শরীর সুস্থ থাকবে, মনও ভালো থাকবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও উন্নত জায়গায় নিয়ে যেতে এই ধরনের খেলাধুলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।”
এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। ছোটদের দারুণ পারফরম্যান্সে উৎসাহ দিতে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক এবং ক্লাবের কর্মকর্তারাও।
আয়োজকদের আশা, এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে এবং এখান থেকেই উঠে আসবে আগামী দিনের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের জিমনাস্টরা। প্রলয় প্রামাণিকের নেতৃত্বে বাণী সংঘ সিংহ ক্লাব ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে।










