তারকেশ্বরে বিজেপি কর্মীর উপর আগ্নেয়াস্ত্র হামলার অভিযোগ, থানার সামনে বিক্ষোভে সন্তু পান
সিঙ্গুর টিভি নিউজ ওয়েবডেস্ক : হুগলির তারকেশ্বরে ফের চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা। রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীর উপর আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাতেই তারকেশ্বর থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন বিজেপি প্রার্থী সন্তু পান এবং দলীয় কর্মী-সমর্থকরা।
বিজেপির অভিযোগ, গতকাল রাতে প্রায় ৯টা নাগাদ চাপাডাঙ্গা এলাকার ৪ নম্বর মন্ডলে তাদের দুই কর্মীর উপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত লালটু চ্যাটার্জি নামে এক ব্যক্তি প্রথমে মারধর করে এবং পরে বন্দুক দেখিয়ে হুমকি দেয়। এমনকি অভিযোগ, কর্মীর গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে “গুলি করে দেওয়া হবে” বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর আহত কর্মীদের নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু অভিযোগ, দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি প্রার্থী সন্তু পান। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে থানার সামনে জড়ো হতে থাকেন আরও কর্মী-সমর্থকরা।
বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে সন্তু পান সরাসরি প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, “এটা জঙ্গলরাজ চলছে। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। আমাদের কর্মীদের উপর হামলা হয়েছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার না করা হলে আন্দোলন আরও বড় আকার নেবে। সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরও গ্রেফতার না হওয়ায়, অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় বিজেপি নেতৃত্ব।
বিক্ষোভ চলাকালীন এলাকায় একাধিক স্লোগান ওঠে। “লালটু চ্যাটার্জিকে গ্রেফতার করতে হবে”, “পুলিশ প্রশাসন জবাব দাও”, “পুলিশ তুমি উর্দি ছাড়ো, তৃণমূলের ঝান্ডা ধরো”—এই ধরনের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে থানার সামনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
বিজেপির আরও অভিযোগ, পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে কেসকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, ঘটনার গুরুত্ব অনুযায়ী কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়নি এবং অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিকেও যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
অন্যদিকে, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত গ্রেফতারের কোনো নিশ্চিত খবর মেলেনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারকেশ্বরের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের ঘটনা এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবে এবং প্রয়োজনে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবে।
বর্তমানে পরিস্থিতি থমথমে হলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে রাতের এই ঘটনাকে ঘিরে আগামী দিনে তারকেশ্বরের রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর সকলের।








