নৈহাটিতে নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আইসি সাসপেন্ড, নির্দেশ Election Commission of India-র
সিঙ্গুর টিভি নিউজ ওয়েবডেস্ক : হুগলির নৈহাটিতে নির্বাচনী আবহে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ। নৈহাটি থানার আইসি মহাবীর বেরাকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিল Election Commission of India। অভিযোগ, তিনি সরকারি পুলিশের গাড়ি ব্যবহার করে এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে মনোনয়ন কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছে দেন। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ঘিরে। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল ছিল প্রথম দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার ঠিক আগের দিন, সোমবার, নৈহাটির বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক সনৎ দে নিজের মনোনয়ন জমা দেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায়।
অভিযোগ, ওই দিন অশোক চট্টোপাধ্যায়কে নৈহাটি থানার আইসি মহাবীর বেরার ব্যবহৃত সরকারি গাড়িতে করে ব্যারাকপুর মহকুমাশাসকের (এসডিও) অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। শুধু তাই নয়, সেই গাড়িতে নাকি আরও ছিলেন সাংসদ পার্থ ভৌমিকের ভাই শেখর ভৌমিক। ঘটনাটি সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় চাপানউতোর।
এই ইস্যুতে সরব হন বিজেপি নেতা Arjun Singh। তিনি একটি ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও, এই ঘটনায় তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। পোস্টে তিনি লেখেন, “নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করছে যাতে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার হচ্ছে। নৈহাটির তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায়কে পুলিশের গাড়ি থেকে নামতে দেখা গিয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে শুরু করে Election Commission of India। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলতেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কমিশনের নির্দেশে সঙ্গে সঙ্গে আইসি মহাবীর বেরাকে সাসপেন্ড করা হয়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে—সরকারি গাড়ির ব্যবহার কতটা নিয়মসিদ্ধ ছিল এবং নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে কি না। নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন। সেই কারণেই এই ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে, মহাবীর বেরার জায়গায় নৈহাটি থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রকাশ ধারাকে। বর্তমানে তিনি থানার সেকেন্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তিনিই আইসি-র দায়িত্ব সামলাবেন বলে জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ, নির্বাচনের সময় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা সরাসরি ভোট প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলে। বিরোধী দলগুলি ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসকদলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে।
অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সরকারি সম্পদ—বিশেষ করে পুলিশ বা প্রশাসনের যানবাহন—কোনও রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী, এই ধরনের কাজ গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর প্রশাসনের ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে Election Commission of India—নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনওরকম অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা হবে না।
নৈহাটির এই ঘটনা যে রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতে আরও প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন নজর থাকবে বিভাগীয় তদন্তের ফলাফলের দিকে এবং কমিশন ভবিষ্যতে আরও কী পদক্ষেপ নেয় তার ওপর।







