তিলজলায় বুলডোজার অ্যাকশন! নবান্ন বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অবৈধ নির্মাণ ভাঙার অভিযান
নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক শেষ হতেই তিলজলায় শুরু হল জোরদার অ্যাকশন। সরকারি জমি দখল ও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন Suvendu Adhikari। আর সেই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতা পুলিশের উপস্থিতিতে শুরু হয়ে যায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ।
নবান্নে ম্যারাথন বৈঠক
বুধবার নবান্ন সভাঘরে প্রায় ৪১টি দফতরের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। কৃষি, স্বরাষ্ট্র, আবাসন, শিক্ষা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের সচিবরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সরকারি জমি দখলমুক্ত করার বিষয়ে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিলজলায় পুলিশের অভিযান
নবান্ন সূত্রে খবর, বৈঠকের পরেই কলকাতা পুলিশের একটি বড় দল পৌঁছে যায় তিলজলা এলাকায়। আগে থেকেই চিহ্নিত কিছু অবৈধ নির্মাণে বুলডোজার চালানো শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
সাংবাদিক বৈঠকে Suvendu Adhikari জানান, অবৈধ কারখানা ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চলবে। এরপরই পুরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা ভাঙার কাজে নামে।
বাসিন্দাদের ক্ষোভ
অভিযানের পর ক্ষোভ উগরে দেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাঁদের দাবি, বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেকের অভিযোগ, ঘরের জিনিস সরানোরও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি।
তিলজলা অগ্নিকাণ্ডের পর কড়া অবস্থান
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবারের ভয়াবহ তিলজলা অগ্নিকাণ্ডকে ঘিরে। টালিখোলা মসজিদের কাছে একটি অবৈধ চামড়ার কারখানায় আগুন লেগে মৃত্যু হয় দু’জনের। আরও কয়েকজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।
তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উঠে আসে, বহুতলটির কোনও অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান ছিল না এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী একে প্রশাসনিক নিরাপত্তার জন্য “অশনি সংকেত” বলে মন্তব্য করেন।
গ্রেফতার মালিক, কাটা হবে বিদ্যুৎ সংযোগ
সরকারি নির্দেশে ওই অবৈধ কারখানার দুই মালিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাগুলোকেও রাজ্যজুড়ে অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের দাবি, ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ নির্মাণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।







