চাপসরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘিরে তৎপরতা, ১৫ বছর পর ফের চালুর আশ্বাস বিধায়ক দিলীপ সিংয়ের
সৌরভ আদক, চাঁপদানি:
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা চাপসরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন চাঁপদানি বিধানসভার বিধায়ক দিলীপ সিং (Dilip Singh)। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশা, জঙ্গলাকীর্ণ পরিবেশ ও পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরে দ্রুত সংস্কার ও পরিষেবা চালুর আশ্বাস দেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন বিডিও, স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক এবং চিকিৎসকরা।
কয়েকদিন আগেই বিধায়ক নিজে উপস্থিত থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ করেছিলেন। এবার সরকারি আধিকারিকদের নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে তিনি জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের কাজ শুরু হবে। পাশাপাশি রোগী ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি ওয়েটিং এরিয়া তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বিধায়ক বলেন, বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাত্র একজন চিকিৎসক রয়েছেন। খুব শীঘ্রই আরও একজন ডাক্তার নিয়োগ করা হবে। তাঁর দাবি, সোমবার থেকেই দ্বিতীয় চিকিৎসক পরিষেবা দিতে পারেন। এছাড়াও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকা ছয়টি বেড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “১৫ বছর ধরে বন্ধ থাকা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে আবার চালু করার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুত সাধারণ মানুষ এখানে পরিষেবা পাবেন।”
তিনি আরও জানান, পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে এনে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনিক স্তরে ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও বৈঠক হবে।
এদিন এলাকার পানীয় জল সমস্যার বিষয়েও সরব হন বিধায়ক। তিনি জানান, পাম্প পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছাতে সমস্যা থাকায় জল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য জমি দান করা স্থানীয় এক ব্যক্তির অবদানের কথাও উল্লেখ করেন বিধায়ক। তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তির স্মৃতিকে ধরে রাখতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি প্রতিমা বা স্মারক স্থাপনের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, যাতে এলাকার মানুষ তাঁর অবদান স্মরণে রাখেন।
পরিদর্শনের সময় দুর্নীতি ও স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধির আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাটমানি ও অব্যবস্থার কারণে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ধ্বংসের মুখে পৌঁছেছে। পাশাপাশি এক পঞ্চায়েত সদস্যের আচরণেরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “যে-ই দুর্নীতি করবে, মানুষকে ভয় দেখাবে বা মা-বোনদের সম্মানের সঙ্গে খেলবে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চাপসরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘিরে এই প্রশাসনিক তৎপরতায় এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। বহু বছর পর স্বাস্থ্য পরিষেবা ফের সচল হওয়ার সম্ভাবনায় খুশি স্থানীয় বাসিন্দারা।







