ডানকুনিতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘিরে উত্তেজনা, ট্রান্সফর্মার বসানো নিয়ে বিক্ষোভে সরগরম ২০ নম্বর ওয়ার্ড
নিজস্ব সংবাদদাতা, ডানকুনি: টানা লোডশেডিং, ভোল্টেজের সমস্যা এবং নতুন ট্রান্সফর্মার বসানোর স্থান নিয়ে বিতর্ককে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ডানকুনি পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ডানকুনি থানার পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে রাত হলেই বিদ্যুৎ পরিষেবার চরম অবনতি হচ্ছে। বিশেষ করে রাত ১১টার পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, এক-দু’ঘণ্টার লোডশেডিং হলে তা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু টানা তিন থেকে চার দিন ধরে একই সমস্যা চলতে থাকায় মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পানীয় জল সরবরাহেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনেক পরিবারকে অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে হাসপাতালে পর্যন্ত যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ।
এক বাসিন্দা বলেন,
“প্রতিদিন রাত ১১টার পর কারেন্ট চলে যাচ্ছে। বাচ্চারা ঘুমোতে পারছে না, বয়স্ক মানুষজন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমরা বিদ্যুতের বিল নিয়মিত দিই, কিন্তু পরিষেবা পাচ্ছি না। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই।”
স্থানীয়দের আরও দাবি, এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। অনেকেই অতিরিক্ত লোড নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফি জমা দিয়েছেন। তারপরেও পরিকাঠামোর উন্নতি না হওয়ায় বারবার এই ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালীন বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা এলাকায় পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও স্থানীয়দের দাবি, কোনও বিদ্যুৎ কর্মীকে আটকে রাখা হয়নি। তাঁরা শুধুমাত্র নতুন ট্রান্সফর্মার বসানোর উপযুক্ত স্থান নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
প্রাক্তন কাউন্সিলর শেখ হাসারত আলী বলেন,
“এখানে কাউকে আটকানো হয়নি। বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকরা নতুন ট্রান্সফর্মার বসানোর জন্য জায়গা দেখতে এসেছিলেন। জায়গা নির্বাচন নিয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে। সেই কারণেই আলোচনা চলছে। প্রশাসন ও পুলিশ এসে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছে। থানায় বসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে।”
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় ভোল্টেজের সমস্যা এবং বারবার বিদ্যুৎ লাইন বিকল হওয়ার অভিযোগ ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ দফতর একটি নতুন ট্রান্সফর্মার বরাদ্দ করেছে। কিন্তু সেটি কোথায় বসানো হবে, তা নিয়েই এলাকায় মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগোনোর পরামর্শ দেন। সূত্রের খবর, ট্রান্সফর্মার বসানোর স্থান চূড়ান্ত করতে প্রশাসন, বিদ্যুৎ দফতর, জমির মালিকপক্ষ এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে শীঘ্রই একটি বৈঠক হবে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, যখন গ্রীষ্মের দাবদাহে মানুষ অতিষ্ঠ, তখন কেন বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উন্নয়নে এত বিলম্ব? কেন বারবার অভিযোগ জানিয়েও স্থায়ী সমাধান পাচ্ছেন না বাসিন্দারা? এই ঘটনায় বিদ্যুৎ দফতরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন এলাকার মানুষ।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, দ্রুত সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। ডানকুনির ২০ নম্বর ওয়ার্ডের এই বিদ্যুৎ সংকট এখন প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশ্ন একটাই— নতুন ট্রান্সফর্মার বসিয়ে কি শেষ পর্যন্ত স্বস্তি ফিরবে, নাকি ক্ষোভের আগুন আরও ছড়াবে?







