পান্ডুয়ায় পঞ্চায়েতের বালতি কাণ্ড! উপপ্রধানের স্বামীর বিরুদ্ধে মজুত ও বিক্রির অভিযোগে তীব্র বিক্ষোভ
📍 পান্ডুয়া, হুগলি: হুগলির পান্ডুয়ার জগন্নাথপুর গ্রামে শনিবার সকালেই চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একটি বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ পঞ্চায়েতের বালতি উদ্ধার ঘিরে শুরু হয় উত্তেজনা, বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর।
অভিযোগ, সরাই তিন্না গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান স্বপ্না মন্ডলের স্বামী বিনোদ মন্ডল ওই বালতিগুলি মজুত করে রেখেছিলেন। বিজেপি কর্মীরা গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই বাড়িতে পৌঁছে তল্লাশি চালায় এবং সেখান থেকে প্রচুর বালতি উদ্ধার হয়।
স্থানীয় গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এই বালতিগুলি মূলত বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বিনামূল্যে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রতিটি বালতির জন্য ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
এক গ্রামবাসী সন্ধ্যা দুর্লভ জানান, “আমাদের বলা হয়েছিল ৩০ টাকা না দিলে বালতি দেওয়া হবে না। অনেকেই টাকা দিতে পারেনি বলে বালতি পায়নি।”
অন্যদিকে লক্ষ্মী দুর্লভ নামে আরেক বাসিন্দার দাবি, “সরকারি জিনিস ফ্রি দেওয়ার কথা, কিন্তু আমাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে।”
যদিও অভিযুক্ত পক্ষের তরফে দাবি করা হয়েছে, সমস্ত বালতি বিতরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রাখা হয়েছিল এবং অনেকেই এখনও সংগ্রহ করতে আসেননি। সেই কারণেই কিছু বালতি নির্দিষ্ট বাড়িতে মজুত রাখা হয়েছিল।
ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে যায় পান্ডুয়া থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বাহিনী।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপপ্রধান স্বপ্না মন্ডলের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। বিজেপির অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তি তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত ইচ্ছেমতো ব্যবহার করেছে এবং তা বিক্রিও করেছে।
বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য, “সরকারি বালতি মানুষের জন্য দেওয়া হলেও তা টাকা নিয়ে বিক্রি করা হয়েছে। যাঁদের পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। এর পূর্ণ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি চাই।”
বর্তমানে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
📌 শেষ আপডেট:
পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।




