রিষড়ায় রাখি বন্ধন উৎসব, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বার্তা অখিল ভারতীয় জনসংঘের

Published on: August 28, 2026

রিষড়ায় অখিল ভারতীয় জনসংঘের রাখি বন্ধন উৎসব, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা

বাঁশতলা মোড়ে সামাজিক সৌহার্দ্যের আহ্বান, শ্যামাপ্রসাদ ও দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ছবিতে মাল্যদান, ফিতে কেটে অনুষ্ঠানের সূচনা

নিজস্ব সংবাদদাতা, রিষড়া:
রাখি বন্ধন উৎসবকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব এবং পারস্পরিক সুরক্ষার বার্তা নিয়ে রিষড়ায় বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করল অখিল ভারতীয় জনসংঘের হুগলি জেলা কমিটি। শুক্রবার, ২৮ আগস্ট সকাল ১১টা নাগাদ রিষড়ার জি.টি. রোড সংলগ্ন বাঁশতলা মোড়ে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের মানুষকে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

রাখি বন্ধন ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। সাধারণভাবে ভাই-বোনের পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সুরক্ষার বন্ধন হিসেবেই এই উৎসবের পরিচিতি থাকলেও সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন রাখি বন্ধনকে বৃহত্তর সামাজিক ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্র হিসেবেও ব্যবহার করে আসছে। রিষড়ায় অখিল ভারতীয় জনসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতেও সেই বৃহত্তর সামাজিক বার্তাই সামনে রাখা হয়।

শ্যামাপ্রসাদ ও দীনদয়ালের ছবিতে মাল্যদান

অনুষ্ঠানের সূচনায় ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি এবং পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ছবিতে মাল্যদান করা হয়। এরপর ফিতে কেটে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন অখিল ভারতীয় জনসংঘের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির প্রেসিডেন্ট ভীম পাত্র

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের হুগলি জেলা প্রেসিডেন্ট জ্যোতিষ গুরু পার্থ ব্যানার্জী শাস্ত্রী। এছাড়াও জেলা ও রাজ্য স্তরের সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষজনও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের বক্তব্যে, রাখি বন্ধনকে কেবল পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের বৃহত্তর পরিসরে ভাই-ভাইয়ের সম্পর্ক, সৌহার্দ্য এবং পারস্পরিক সুরক্ষার বন্ধন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার বার্তা দেওয়া হয়। মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই ধরনের কর্মসূচি বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

‘নিজেকে নয়, নির্মাণই লক্ষ্য’—প্রচারপত্রে সংগঠনের বার্তা

অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রকাশিত প্রচারপত্রেও সংগঠনের ভাবধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাধিক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে লেখা হয়েছে—‘নিজেকে নয়, নির্মাণই লক্ষ্য’ এবং ‘জাতি গঠনের সংকল্পে, চলো এক হই আমরা সবাই’

এই বার্তাগুলির মধ্য দিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে সামাজিক ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সংগঠিতভাবে সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে রাখির বন্ধনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক দায়বদ্ধতা ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ক আরও মজবুত করার কথাও তুলে ধরা হয়।

রাজনৈতিক সংগঠনের সামাজিক কর্মসূচি, নজরে রাজনৈতিক মহলও

অখিল ভারতীয় জনসংঘের মতো রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলের নজরও থাকে। তবে এই অনুষ্ঠানের প্রচারিত বক্তব্য ও কর্মসূচির মূল বিষয় ছিল সামাজিক ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতি

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সমাজে বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করাই এই ধরনের কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। বিভিন্ন শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।

রিষড়ার জি.টি. রোডের ব্যস্ত বাঁশতলা মোড়ে অনুষ্ঠিত এই রাখি বন্ধন কর্মসূচি ঘিরে সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যথেষ্ট উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। রাখির প্রতীকী বন্ধনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, বিশ্বাস, ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

অনুষ্ঠানে কারা ছিলেন

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অখিল ভারতীয় জনসংঘের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির প্রেসিডেন্ট ভীম পাত্র, যিনি ফিতে কেটে কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন। উপস্থিত ছিলেন হুগলি জেলা প্রেসিডেন্ট জ্যোতিষ গুরু পার্থ ব্যানার্জী শাস্ত্রী-সহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃত্ব, কর্মী ও সমর্থকরা।

আয়োজকদের মতে, রাখি বন্ধনের প্রকৃত তাৎপর্য মানুষের মধ্যে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা। সেই সম্পর্ক শুধুমাত্র পারিবারিক গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৃহত্তর সমাজে সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সুরক্ষার বন্ধন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই তাঁদের লক্ষ্য।

সব মিলিয়ে, রিষড়ার বাঁশতলা মোড়ে অখিল ভারতীয় জনসংঘের উদ্যোগে আয়োজিত রাখি বন্ধন কর্মসূচিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তাই ছিল মূল আলোচ্য। রাখির বন্ধনে সমাজের মানুষকে আরও কাছাকাছি আনার এই উদ্যোগ আগামী দিনে কীভাবে বিস্তৃত হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

 

ভ্রমণ দিশারী ট্যুর এন্ড ট্রাভেলস্
আজই যোগাযোগ করুন👇
8697937345

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now