রাখি বন্ধনের দিনে তারকেশ্বরে ভালোবাসার জোয়ার, আবেগঘন বার্তা বিজেপি নেতা গণেশ চক্রবর্তীর
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—“দাদা, ভাইপো কেমন আছে? বৌদি কেমন আছে? অন্যায়ের প্রতিকার হবে তো?”
নিজস্ব সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: রাখি বন্ধন উৎসব মানেই ভাই-বোনের সম্পর্কের বন্ধন, ভালোবাসা, স্নেহ ও পারস্পরিক অঙ্গীকার। তবে এবারের রাখি বন্ধন উৎসব তারকেশ্বরে বিজেপি আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি গণেশ চক্রবর্তীর কাছে হয়ে উঠল আবেগ ও মানুষের ভালোবাসার এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। উৎসব উপলক্ষে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁদের আন্তরিকতা, উদ্বেগ ও সহমর্মিতায় আপ্লুত হয়েছেন তিনি। সেই অনুভূতির কথাই সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেছেন গণেশ চক্রবর্তী।

রাখি বন্ধনের দিন তারকেশ্বরের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। স্থানীয় মহিলারা তাঁর হাতে রাখি পরিয়ে দেন। কোথাও প্রবীণ নাগরিকরা এগিয়ে এসে তাঁর খোঁজ নেন, আবার কোথাও ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আবেগ ও ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের এই আন্তরিকতা তাঁকে নতুন করে নাড়া দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে গণেশ চক্রবর্তী লেখেন, “আজ রাখী বন্ধন উৎসবেও তারকেশ্বরের সাধারণ মানুষের উৎকণ্ঠা দাদা!! ভাইপো কেমন আছে? বৌদি কেমন আছে? অন্যায়ের প্রতিকার হবে তো? অন্যায়কারীর বিচার হবে তো?”
এই প্রশ্নগুলিই যে তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে, তা তাঁর পোস্ট থেকেই স্পষ্ট। তিনি আরও লেখেন, “মানুষের এতো ভালোবাসা আমি জানতাম না!!” তারকেশ্বরের প্রবীণ নাগরিকদের স্নেহ ও শ্রদ্ধা, ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের আবেগ এবং সমবয়সী দোকানদারদের ভালোবাসায় তিনি আপ্লুত বলেও উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি গণেশ চক্রবর্তীর পরিবারকে ঘিরে একটি হামলার অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে তাঁর সন্তান এবং স্ত্রীর উপর দুষ্কৃতীদের হামলার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পর থেকেই পরিবারের নিরাপত্তা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। যদিও ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি, অভিযোগের সত্যতা এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশাসনের বক্তব্যই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।
রাখি বন্ধনের দিন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া প্রশ্নের মধ্যেও সেই ঘটনার ছায়া দেখতে পাচ্ছেন গণেশ চক্রবর্তী। তাঁর পোস্টে বারবার উঠে এসেছে পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়া এবং অন্যায়ের প্রতিকার ও বিচার পাওয়ার প্রত্যাশার কথা।
তারকেশ্বরের সাধারণ মানুষের এই ভূমিকা নিয়ে বিজেপি নেতা বলেন, তিনি এতটা ভালোবাসা ও স্নেহ পাবেন বলে কখনও ভাবেননি। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া শ্রদ্ধা এবং তরুণ প্রজন্মের আবেগ তাঁকে স্পর্শ করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি বা নির্বাচনী রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; ব্যক্তিগত বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সহমর্মিতা প্রকাশের মধ্যেও সেই সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ পায়।
এদিনের রাখি উৎসবের ছবিতেও দেখা যায়, স্থানীয় মহিলারা গণেশ চক্রবর্তীর হাতে রাখি পরিয়ে দিচ্ছেন। উৎসবের আবহে একাধিক মানুষকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এবং শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। কোথাও হাসিমুখে রাখি পরানোর মুহূর্ত, আবার কোথাও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের ছবি ধরা পড়েছে।
তবে এই আবেগঘন পরিবেশের পাশাপাশি সাম্প্রতিক হামলার অভিযোগ ঘিরে আইনি প্রক্রিয়ার দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, কারা জড়িত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে। কোনও অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফল সামনে আসা জরুরি।
রাখি বন্ধনের সামাজিক তাৎপর্য মূলত মানুষের মধ্যে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করা। তারকেশ্বরেও এদিন সেই আবহেরই প্রতিফলন দেখা গেল বলে দাবি গণেশ চক্রবর্তীর। তাঁর কাছে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন শুধু পরিবারের খোঁজ নেওয়া নয়, বরং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশারও প্রতিফলন।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাইরে সাধারণ মানুষের এই ভালোবাসা ও সহমর্মিতাকে নিজের শক্তি হিসেবে দেখছেন বিজেপি নেতা। তাঁর আবেগঘন বার্তায় তাই একদিকে যেমন সাম্প্রতিক ঘটনার স্মৃতি উঠে এসেছে, অন্যদিকে তেমনই উঠে এসেছে তারকেশ্বরের মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা।
রাখির সুতোয় যেমন সম্পর্কের অঙ্গীকার থাকে, তেমনই গণেশ চক্রবর্তীর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যাশা। আর সেই প্রত্যাশার কেন্দ্রে রয়েছে একটাই প্রশ্ন—অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হবে তো, অন্যায়ের প্রতিকার হবে তো, এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তো?
তারকেশ্বরের মানুষের এই প্রশ্নের উত্তর এখন প্রশাসনিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকেই তাকিয়ে।
ছবিতে: রাখি বন্ধন উৎসবে গণেশ চক্রবর্তীকে রাখি পরিয়ে দিচ্ছেন স্থানীয় মহিলারা।


8697937345











